সুরমা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে ১২ গ্রামের মানুষ

‘কিছুদিন আগে আমার ভিটেমাটি সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ নিয়ে আমি দুবার ভাঙনের শিকার হলাম। কিছু করার নাই, আমাদের নদীপাড়ের মানুষগুলোর কপাল পোড়া। যত দিন বেঁচে আছি দেখি, আর কতবার বাড়ি ভাঙতে পারে নদী!’
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের আমানিপুর গ্রামের মৎস্যজীবী জয়মোহন বর্মণ (৭০) ও দিলীপ বর্মণ (৬৫)।
সম্পর্কিত খবর
নদীভাঙনে এভাবেই নিঃস্ব হচ্ছে উপজেলার ১২ গ্রামের মানুষ। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। গত কয়েক বছরে সুরমা নদীর ভাঙনে কয়েকশ পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে বিদ্যালয়, কবরস্থান, বাজার, মসজিদ ও আবাদি জমি। এখনো এসব গ্রামে ভাঙন অব্যাহত আছে। গ্রামের মানুষ সব সময় ভয়ে থাকেন, কখন নদীতে তলিয়ে যায় ভিটেবাড়িসহ শেষ সম্বলটুকু।
নদীভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের রামনগর, নূরপুর, সাচনাবাজার, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামলাবাজ, নয়াহালট, চানপুর, সংবাদপুর, লালপুর, লক্ষ্মীপুর, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ, সাচনা গ্রাম, ফেনারবাক ইউনিয়নের শরীফপুর, রামপুর, গজারিয়া, আলীপুর, আমানীপুরসহ ১২টি গ্রাম। সারা বছরই ভাঙছে নদী। তবে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ে।
কালবেলা পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন নূরপুর গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আবদুল বসির ও রইছ মিয়া বলেন, ‘বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে জীবনটাই শেষ। আমার জীবনে নদী তিনবার বাড়ি ভাঙছে। এ ছাড়া তিন বিঘার মতো আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।’
ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে গ্রাম রক্ষার জন্য পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি, দ্রুতই কাজ সম্পন্ন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, জরুরি ভিত্তিতে ৫৬ লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত আমানিপুর বাজার ও গ্রামটি রক্ষা করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে এই অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার টেন্ডার হবে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, এরই মধ্যে আমানিপুর বাজারসহ গ্রামটিতে নদীভাঙন রোধে ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কিছুদিনের মধ্যেই টেন্ডার হবে।