• শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
  • ||

ডাকাত ভেবে ৫ পুলিশকে গণপিটুনি, আসামি ছিনতাই

প্রকাশ:  ০৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৫৪
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সাদা পোশাকে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে ফুলছড়ি থানা পুলিশের পাঁচ সদস্য গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। এসময় হাতকড়াসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এলাকাবাসী। রোববার (৬ নভেম্বর) রাতে ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি হাতকড়া, গ্রেপ্তার হয়নি ওই আসামি মালেক মিয়া।

তিনি ফজলুপুরের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফছার মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় বিনাদোষে ব্যবসায়ী মালেক মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের রতনপুর শাপলা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। অপরদিকে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগে মামলা করেছেন ফুলছড়ি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রোববার রাতে সাদা পোশাক পড়ে পাঁচজন ব্যক্তি মালেক মিয়াকে হাতকড়া পড়ায়। তারা দ্রুত মালেককে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের এমন আচরণে সন্দেহ হয় অন্যান্য ব্যবসায়ীদের। পরে স্থানীয়রা পুলিশ দাবি করা ব্যক্তিদের আইডি কার্ড দেখতে চায় ও গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চায়। এ সময় তারা মোবাইলে তোলা একটি অস্পষ্ট ছবি ওয়ারন্টের কপি হিসেবে দেখায় এবং পুলিশের পরিচয়পত্র থানায় রেখে আসছে বলে জানায়। এতে স্থানীয়দের আরও সন্দেহ হলে তারা মালেককে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ডাকাত সন্দেহে তাদেরকে মারধর করা হয়। পরে তাদের আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় পরদিন বিনাদোষে ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার অভিযোগ এনে শাপলা বাজারে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

থানা পুলিশ জানায়, বব্যবসায়ী মালেকের বিরুদ্ধে ফুলছড়ি থানায় একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিআর ১১৫/২২ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

রোববার রাতে থানার এসআই মো. মোবারকের নেতৃত্বে ফুলছড়ি থানা পুলিশের পাঁচজন পুলিশ সদস্য শাপলা বাজারে অভিযান চালান। এ সময় আসামি মালেককে তারা ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করে কিছু দূরে নিয়ে গেলে এলাকাবাসী পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতকড়াসহ মালেক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আহত হয় তিন পুলিশ সদস্য। পরে পুলিশের উপর হামলা ও সরকারী সম্পদ লুটের অভিযোগে ২৫ জনকে নামসহ ও অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।

মালেকের বাবা আফসার মিয়া বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে মালেকের নামে একটি মিথ্যা চুরির মামলা দেয় এক প্রতিবেশী। সেই মামলায় রোববার দুপুরে মালেক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়। জামিন পাওয়ার পরদিন বিকেলেই থানায় জামিনের রি-কল জমা দেওয়া হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কোনো মামলা ছিল না। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি। আমাদের প্রতিপক্ষদের সাথে হাত মিলিয়ে পুলিশ আমার ছেলেকে তুলে গিয়ে নিয়ে গুম করতো। কেননা এরকম করে গুমের ঘটনা এর আগেও এই চরে একাধিকবার হয়েছে।

ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো.আব্দুল আজিজ বলেন, থানার এসআই মোবারকের নেতৃত্বে ফুলছড়ি থানা পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি টিম ফজলুপুর ইউনিয়নের শাপলার বাজার এলাকা থেকে নিয়মিত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মালেককে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু চরের লোকজন আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে মারধর করে এবং হাতকড়াসহ আসামি মালেককে ছিনিয়ে নেয়। এতে আমাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আসামির নামে ফুলছড়ি থানায় একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে। একটি সিআর মামলা রয়েছে।

পুলিশ,গণপিটুনি,গাইবান্ধা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close