• বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

মধ্যরাত থেকে মেঘনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা 

প্রকাশ:  ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০:৩৯
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

ইলিশের প্রজনন সময় শুরু হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাত ১২টা থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা যাবে না। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাংলা মাসের ২২ আশ্বিন থেকে ১২ কার্তিক পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে বেশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্বিঘ্নে যাতে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে সে জন্যই ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর এই আইন অমান্য করলে ১ বছর থেকে ২ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, ২২ দিন জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার লক্ষ্মীপুরের জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিরতণ করবে। লক্ষ্মীপুরে একটি এনজিও সংস্থার হিসেব মতে- প্রায় ৫৪ হাজার জেলে রয়েছে। তাদের প্রত্যেকে নদী এবং সাগরে মাছ শিকারে নিয়োজিত। এদের মধ্যে সরকারীভাবে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৪৩ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকে ৪০ হাজার জেলেদের মাঝে ২০ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেসহ সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্য কোথাও থেকে বরফ আসতে না দেওয়া, নদী সংলগ্ন খাল থেকে নৌকা বের হতে না দেওয়া, মাছঘাট সংলগ্ন বাজারের নৌকা ও ট্রলারের জ্বালানি তেলের দোকান বন্ধ রাখা, নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরের মাছঘাট গুলো বন্ধ রাখা ইত্যাদি।

জেলার রামগতি উপজেলার মেঘনার উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখো গেছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে থাকা অনেকে জেলে তাদের জাল এবং সরঞ্জাম নিয়ে মাছঘাটে চলে এসেছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে অন্যান্য জেলে নৌকা নদী এবং সাগর থেকে উঠে আসবে।

রামগতি বাজার সংলগ্ন মালিবাড়ি খাল মাছঘাটের বাসিন্দা ও ট্রলার মালিক নুর নবী বলেন, আমরা সাগরে মাছ ধরি। এক সপ্তাহ সাগরে মাছ ধরে বুধবার সকালের দিকে মাছঘাটে চলে এসেছি। অভিযান শুরু হয়েছে। এবারের জন্য আর সাগরে যাওয়া হবেনা। তাই জাল মেরামত করে নিচ্ছি। তিনি আরোও বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মাছ পেয়েছেন তিনি। তার ট্রলারে ১৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়োজিত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে এ ২২ দিন জেলেদের মাছ শিকারে বিরত রাখতে নদীতে কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই আইন অমান্যকারীদের জেল, জরিমানা ও উভয়দণ্ডে বিধান রয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

লক্ষ্মীপুর,নিষেধাজ্ঞা,শিকার,মাছ,মেঘনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close