• রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

স্বামী-স্ত্রীকে টয়লেটে আটকে রাখলেন চেয়ারম্যান

প্রকাশ:  ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৯:৫০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী দম্পতিকে ঘন্টাব্যাপী টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। লজ্জায় টয়লেটের ভেতরেই ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তাৎক্ষণিক তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে স্ত্রী জেসমিন আক্তারের চিৎকারে বাইরে থেকে লোকজন টয়লেটের চিটকানি খুলে তাদের উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি কার্যালয়ের টয়লেটে তাদের আটকে রাখেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

অচেতন অবস্থায় আমজাদকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আমজাদ উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের মোকতারামপুর গ্রামের মির্জা নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি প্রায় ১১ বছর কাতারে চাকরি করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী।

পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। সবশেষ প্রায় ২ বছর আগে একই গ্রামের জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তার প্রথম সংসারে লিপি আক্তার (১৮) নামে এক মেয়ে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমজাদের বিরুদ্ধে তার মা আয়েশা খাতুন ও মেয়ে লিপি পারিবারিক কলহের জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের কাছে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে উভয়পক্ষকে পরিষদের ডেকে আনে। এসময় আয়েশা খাতুনকে মারধরের অভিযোগে চেয়ারম্যান ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। আমজাদের বিরুদ্ধে দাদিকে মারধরের লিপিও অভিযোগ করেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষুদ্ধ হয়ে গ্রাম পুলিশদের দিয়ে আমজাদ ও তার স্ত্রী জেসমিনকে পরিষদের টয়লেটে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। প্রায় ১ ঘন্টা আটকে রাখার পরও তাদেরকে ছাড়া হয়নি। পরে লজ্জায় টয়লেটের ভেতরে থাকা একটি প্লাস্টিকের রশি দিয়ে আমজাদ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্বামীকে বাঁচাতে জেসমিন চিৎকার দিলে বাইরে থেকে টয়লেটের দরজা খুলে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসময় অচেতন অবস্থায় আমজাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আমজাদ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে আমার মা ও মেয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। চেয়ারম্যান শুধু তাদের কথা শুনেছে। আমাদের কোন কথাই তিনি কর্ণপাত করেননি। অন্যায়ভাবে তিনি আমাদেরকে টয়লেটে আটকে রাখেন। এটি অনেক বড় লজ্জার। এর চেয়ে মৃত্যু ভালো। এজন্যই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি। ১১ বছরের প্রবাস জীবনের সকল উপার্জন মায়ের ব্যাংক হিসেবে পাঠিয়েছি। টাকা-পয়সা খরচের হিসেব কখনো চাইনি। কিন্তু আজ মা আমাকে চরম লজ্জায় পেলেছেন।

জেসমিন আক্তার বলেন, আমার শ্বাশুড়ির অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ছিল। তাকে কেউ মারেনি। অযথা অভিযোগ দিয়ে তিনি আমাদের নাজেহাল করেছেন। আর চেয়ারম্যান আমাদের ওপর অন্যায় করেছেন।

তবে এসব ব্যাপারে আমজাদের মা আয়েশা খাতুনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমজাদকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়নি। তার মাকে মারধরসহ নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। এতে তাকে পুলিশে দেবো বলায় তিনি ভয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক একে আজাদ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় আমজাদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হক বলেন, ঘটনাটি পুলিশকে কেউ জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি চেয়ারম্যান দোষী হন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/বাবলু/এআই

স্বামী-স্ত্রী,লক্ষ্মীপুর,চেয়ারম্যান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close