• বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
  • ||

লালমনিরহাটে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:  ০৪ জুলাই ২০২২, ১৯:৫৫
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধু রেহানা আক্তারকে (৩৪) গাছে বেঁধে নির্যাতন ও তাদের থাকার একমাত্র বসতভিটেতে আগুন ধরিয়ে পুড়ে ছাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব মিলনের(৩৫) বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সময় গৃহবধূকে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে যখম করা হয়।

এদিকে এ সময় ওই গৃহবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছেলে মোজাহিদ হোসেন(১৪) ও মেয়ে জুবাইদাকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ বর্তমান হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে হাতীবান্ধায় থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর স্বামী জিয়ারুল হক। এর আগে গত শনিবাব(২ জুলাই) সকালে উপজেলার বড়খাতা গ্রামের ৪নং তহশিলদার পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মিলন(৩৫), সফিয়ার রহমান পিন্টু(৫৫), মনিরুজ্জামান(৫১), রবিউল ইসলাম(২৮), খতিবর রহমান(৩০), মামুনসহ(৩৫) আরও অনেকে।

জানা গেছে, জমি নিয়ে জিয়ারুলের সাথে তার ভাই পিন্টু ও মিলনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার জিয়ারুল হকের বাড়িতে যুবলীগ নেতা মিলন ও তার ভাই পিন্টুসহ আরও কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় জিয়ারুল হকের স্ত্রী রেহেনা বাঁধা দিলে তাকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে বসত ভিটেতে আগুন ধরিয়ে দেয় যুবলীগ নেতা মিলন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ছেলে ও মেয়েকেও মারধার করেন তারা। পওে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সোমবার বিকেলে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন রেহেনা আক্তার। তার মাথায় দুটি সেলাই ও দু হাতে ১১টি সেলাই দেওয়া। এ সময় রেহেনা কান্না করতে করতে বলে, দেবর মিলন বাড়িতে এসে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় আমি বাধা দিতে গেলে মিলনের হাতে থাকা চাকু দিয়ে আমার হাতে ও মাথায় কোপ দেয়। এমনকি আমার ভাসুর, দেবর ননদ ও ননদের ছেলে মিলে আমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। পরে গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেধে নির্যাতন করে। আমাকে রক্ষা করতে আমার ছেলে মেয়ে ছুটে আসলে তাদেরকেও মারধর করে।

গৃহবধূ রেহেনা আক্তারের স্বামী জিয়ারুল হক বলেন, আমি বাড়িতে না থাকায় সেই সুযোগ বুঝে আমার বড় ভাই ছোট ভাই বোন মিলে আমার বউকে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি কি বিচার পাবো না?

এ বিষয়ে জানতে বড়খাতা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মিলন বলেন, তাকে কোন মারধর করা হয়নি। এটা পারিবারিক বিষয়।

অভিযুক্ত সফিয়ার রহমান পিন্টু বলেন, আমরা তাকে মারধর করিনি সে নিজে নিজে হাত কেটে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈম হাসান নয়ন বলেন, ওই গৃহবধূ হাসপাতে ভর্তি আছেন। এছাড়া তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বপশ্চিম- তমাল/ এনই

লালমনিরহাট,হাতীবান্ধা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close