• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

খুলনার ৩ স্পটে  বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন

প্রকাশ:  ২৪ জুন ২০২২, ১৭:৫১ | আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১৭:৫৬
শেখ নাদীর শাহ্

রাত পোহালেই শনিবার (২৫ জুন)। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। তাই সারা দেশের ন্যায় স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে খুলনা মহানগরীও যেন বর্ণাঢ্য সাজসজ্জায় সেজেছে। বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে নগরীকে। ব্যবহৃত হচ্ছে বাহারিসব আলোকরশ্মি। লাল, নীল, হলুদ, সাদা, সোনালী হরেক রঙের আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, ব্যক্তিগত ভবন ও সড়কগুলোকে।

অন্যদিকে স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ কেন্দ্র দু’দিন ব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ ২৪ ও ২৫ তারিখ ফ্যামিলী কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রিও বন্ধ রাখবে। অপর দিকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী শনিবার (২৫ জুন) জেলা প্রশাসন আয়োজিত মোটর শোভাযাত্রায় অংশ নেবে। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মসূচিও নিয়েছেন।

নগরের বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ পুত্রের ছবি সম্বলিত প্যানা ও বিলবোর্ড। কেসিসিতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। এ প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তৎপরতার ছবিও তুলে ধরা হয়েছে। ইউনাইটেড ক্লাবে রয়েছে পদ্মা সেতুর পতিচ্ছবি।

খুলনা থানা, ময়লাপোতা ও শিববাড়ি মোড়ে বাহারি রঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পদ্মা সেতুকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণও করা হয়েছে। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, খুলনা চেম্বার এ্যান্ড কর্মাস ইন্ডাসট্রিজ, খুলনা বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ জুট এ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলনা নগরীতে ব্যানার ও ফেসটুন দিয়ে সজ্জিত করেছে।

আর নগরবাসীর ধারণা ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৬ জুন থেকে বহূল প্রত্যাশিত স্বপ্নের সেতুটি চালু হলে খুলনা জিরো পয়েন্ট দিয়ে যানবাহন চলাচলের মাত্রা কয়েক গুন বেড়ে যাবে। তবে জিরো পয়েন্ট থেকে রুপসা বাইপাস সড়ক, একইভাবে সাতক্ষীরা, চুকনগরের দিকের সড়কটিসহ বাইপাস হয়ে আফিলগেটের দিকে যাওয়ার সংযোগ সড়কগুলির অবস্থা নাজুক ।

সড়কগুলিতে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সংযোগ সড়ক গুলোর একেকটি কর্দমাক্ত হয়ে পরিণত হয় মরণফাঁদে। এতে করে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন এবং পথচারীদের ওই সকল স্থানগুলোতে দিয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হয়। অন্যদিকে সংযোগ সড়কগুলিতে নেই কোন ট্রাফিক লাইট কিংবা ট্রাফিক পুলিশ।

তবে ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এবং খুলনা সিটি বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল খুলনা জিরো পয়েন্টে জোড়াতালি দিয়ে কোন মতে সমান করার উদ্যোগ নিয়েছে সওজ। তাড়াহুড়ো করে গত মঙ্গবার (২১ জুন) থেকে সংস্কার কাজ শুরু করেছে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সড়কের বড় বড় গর্তগুলো বালু এবং ইটের খোয়া দিয়ে ভরাট করে লেবেল করা হচ্ছে।

তবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে সামনে রেখে জিরো পয়েন্টে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে বৃহস্পতিবার থেকে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ সদস্যরা জিরো পয়েন্ট দিয়ে যানবাহন চলচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাধ্যমত চেষ্টাও করছেন।

সর্বশেষ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর জিরো পয়েন্টে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ইন্টারসেকশন নির্মাণের পরিকল্পণা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

এদিকে আগামীকাল ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শুক্রবার (২৪ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।

প্রেসব্রিফিং-এ জেলা প্রশাসক জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন খুলনার পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ জুন সকাল ১০টায় বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে তিনি পদ্মা সেতু নির্মাণকে অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসেন। পদ্মা সেতু আমাদের বিজয়ের প্রতীক; উন্নয়ন, ঘুরে দাঁড়ানো ও হার না মানার প্রতীক।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের অনন্য ইতিহাস ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাহেন্দ্রক্ষণের সাথে সকলকে সম্পৃক্ত করতে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

২৫ জুন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি বড় পর্দায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, দৌলতপুর ও শিববাড়ি এলাকায় প্রদর্শন করা হবে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দবার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ২৪ জুন সকাল থেকে দুইটি সুসজ্জিত প্রচার ভ্যানে পদ্মা সেতু উপর নির্মিত থিম সং এবং পদ্মা সেতু প্রোমোশনাল অডিও সম্প্রচার করা হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে খুলনা মহানগরী ও সারা জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পোস্টার বিতরণ ও টানানো হয়েছে। খুলনাকে আলোয়-উদ্ভাসিত করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় থাকছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। পদ্মা সেতুকে উপজীব্য করে নির্মিত বিশেষ ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এবং ডাক বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মুখস্থ এল-ই-ডি স্ক্রিনে।

২৫ জুন বিকাল চারটায় জেলা স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পটের গান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যান্ড দল ‘চিরকুট’ এবং ‘বাউল’ এর সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অনুষঙ্গ হিসেবে খুলনার আকাশকে বর্ণিল রঙে ও শব্দ তরঙ্গে সাজাতে জেলা স্টেডিয়ামে থাকবে আতশবাজী এবং পরিবেশিত হবে নান্দনিক লেজার-শো।

প্রেসব্রিফিং-এ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বপশ্চিম- এনই

খুলনা,পদ্মা সেতু
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close