• সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

পদ্মা সেতু: ঝালকাঠির অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে

প্রকাশ:  ২৪ জুন ২০২২, ১১:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুন উদ্বোধন হচ্ছে বাঙালির স্বপ্নের পদ্মা সেতু। উদ্বোধনের পরই উন্মুক্ত হবে ঝালকাঠিসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ। সেই সঙ্গে খুলে যাবে সবকটি বাণিজ্যিক পথ।

ঝালকাঠির বিষখালী নদী তীরে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্র ছৈলারচর, সুগন্ধার তীরে গড়ে ওঠা বিসিক শিল্প নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক, সাবেক মন্ত্রী এবং ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পরে বাঙালি জাতির আরেকটা আনন্দ উৎসব পালন করতে যাচ্ছে ২৫ জুন। এই উৎসব হলো পদ্মা সেতুর উদ্বোধন। স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মা সেতু।

আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পরে যেসব রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করেছে, তারা পদ্মার পশ্চিমপাড়ের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে কখনোই ভাবেননি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই দেশপ্রেমিকের সন্তান জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছে। পায়রা বন্দর চালু করেছে। এখন পদ্মা ব্রিজও উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এতে করে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের ফলে বরিশাল, ঝালকাঠিসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাল্টে যাবে পুরাতন চেহারাও।

ঝালকাঠির কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব-১ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব খাইরুল ইসলাম মান্নান বলেন, বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে তাদের কাজ গুটিয়ে নিয়েছিল, তখন পদ্মা সেতু প্রকল্প অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা পড়ে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তে সেই মেঘ কেটে গেছে। আজ পদ্মা সেতু রঙিন স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জের পদ্মা সেতু এখন একটি মাইলফলক।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝালকাঠির অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন হবে। ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের যাতায়াতে সময় অনেক কম লাগবে। ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে। দ্রুত সময়ে রোগীদের নিয়ে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। পদ্মা সেতুর কারণে ঝালকাঠিসহ এ অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও বিপ্লব ঘটবে। উদ্যোক্তারা এ জেলায় শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবে। এতে জেলায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সহজে জেলার পেয়ারা ও আমড়াসহ কৃষিপণ্য ঢাকা চট্টগ্রামসহ অন্য জেলায় দ্রুত পরিবহনে কৃষকরা লাভবান হবে। পদ্মা সেতু চালু হলে জেলার বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লোক সমাগম বৃদ্ধি পাবে।

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর উপ-ব্যবস্থাপক মো. শাফাউল করিম বলেন, বিসিক মূলত সব শিল্পের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ঝালকাঠি জেলায় এর প্রভাব পড়বে। ফলে এখানে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের। ইতিমধ্যেই আমাদের এ শিল্পনগরীর ৭৯টি প্লটের মধ্যে ৭৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে শিল্পনগরীর দ্রুত সম্প্রসারণ প্রয়োজন হবে।

ঝালকাঠি শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্বপ্নের পদ্মা ও পায়রা সেতু নির্মাণ হওয়ায় এক সময়ের দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত ঝালকাঠি জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকা বদলে যাচ্ছে। জেলায় বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে। যার প্রমাণ ঝালকাঠি শিল্পনগরীর ৭৯ টি প্লটের ইতিমধ্যেই ৭৫টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে বিভিন্ন নতুন উদ্যোক্তারা। জেলার ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনে নৌ ও সড়ক পথে যতটা ভোগান্তি হতো তার চেয়ে এখন সময় অনেক কম লাগবে। এতে দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন খরচ কমে আসবে। এভাবেই জেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে পদ্মা সেতু।

ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে ঝালকাঠি পরিবহন জগতে যাত্রীদের সুবিধাসহ স্বল্প সময়ের মধ্যে নিরাপদে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। এতে ঢাকা থেকে আরও অনেক নতুন বিলাসবহুল পরিবহন সরাসরি ঝালকাঠিতে চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ঝালকাঠির পরিবহন জগতে যাত্রী সেবার মান আরও উন্নত হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসার ঘটবে। অনেক বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

পূর্ব পশ্চিম/ম

পদ্মা সেতু
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close