• মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

প্রসূতির মৃত্যুতে হাসপাতাল সিলগালা, ৯ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশ:  ২৬ মে ২০২২, ১০:২২
অনলাইন ডেস্ক

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ৯ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপন দেবনাথের উপস্থিতিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মা লাবিয়া অর্ণব ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বেসরকারি হাসপাতালটি সিলগালা ও কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এক মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হাসপাতালটির সিকিউরিটি গার্ড হামিদুর রহমান ও আব্দুল করিম, ১৫ দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হাসপাতালের মার্কেটিংয়ের পারভীন আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সুমি আক্তার, শিল্পী আক্তার এবং সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নজরুল ইসলাম স্বপনের স্ত্রী মান্না তানিয়া।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোববার (২২ মে) অস্ত্রোপচারে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের টাকিমারা গ্রামের মুখলেছ মিয়ার স্ত্রী সাবিনা। ওই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফারহানা নবিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডা. ফারহানা নবি বলেন, প্রাথমিক তদন্তকালে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নজরুল ইসলাম স্বপনের নিকট তার প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলাম। তিনি তা দেখাতে পারেননি। সরকারি কাগজে-কলমে সিংগাইরে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে কোনো হাসপাতালই নাই। যিনি প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি কোনো ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন। এমনকি যে ডাক্তার অজ্ঞান করেছেন তারও কোনো ডিগ্রী নাই।

জানা যায়, মৃত প্রসূতি সাবিনা আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে গত শনিবার (২১ মে) দিবাগত রাত ১১ টার দিকে সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত তিনটার দিকে তার অস্ত্রোপচার করেন গাইনি ডা. ইমা বিনতে ইউনুছ। তিনি একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেন। সাবিনার পরিবারের অভিযোগ, ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেই তার মৃত্যু হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মৃত অবস্থায় সাবিনাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পর বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রসূতির স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় দেন-দরবার হয়ে এক পর্যায়ে দুই লাখ টাকায় রফা হয়। কিন্তু প্রসূতির পিতামাতা ও শশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা বাধে। এই কারণে সমঝোতার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের এক স্বজন।

ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মা লাবিয়া অর্ণব বলেন, সিটি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এর কোন সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। একজন ডাক্তার ও পাঁচজন নার্স রয়েছে হাসপাতালটিতে। অভিযান চলাকালে মালিক নজরুল ইসলাম পালিয়ে যায়। হাসপাতালের সাথে জড়িত ৯ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটির কোন অনুমোদন না থাকায় তা সিলিগালা করে দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব পশ্চিম/জেআর

নবজাতক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close