• মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

ভেনামির পাইলট প্রকল্প স্বপ্ন দেখাচ্ছে চিংড়ি চাষিদের

প্রকাশ:  ২৪ মে ২০২২, ১৭:৪৪ | আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১৭:৫৫
শেখ নাদীর শাহ্, খুলনা প্রতিনিধি

নানা সংকটের মুখে থাকা সম্ভাবনাময় চিংড়ি শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকিয়ে রাখতে বাগদার বিকল্প হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে ভেনামি চিংড়ির পাইলট প্রকল্প।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পে ২য় বারের মতো খুলনার পাইকগাছার লোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের চারটি পুকুরে পোনা অবমুক্তির মাধ্যমে শুরু হয় এ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে প্রকল্পের দু’টি পুকুরের নমুনয়ন ও পরিদর্শনে ফুটে উঠেছে এর ধারাবাহিক সফলতার চিত্র।

বহুবিধ সংকট ও প্রতিবন্ধকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ির পোনা আমদানি করে খুলনাঞ্চলের আটটি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলক চাষের অনুমতি দেয়।

অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- এমইউসি ফুডস, ফাহিম সি ফুডস, গ্রোটেক অ্যাকোয়াকালচার লিমিটেড, রেডিয়েন্ট শ্রিম্প কালচার, আইয়ান শ্রিম্প কালচার, ইএফজি অ্যাকোয়া ফার্মিং, জেবিএস ফুড প্রডাক্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও প্রান্তি অ্যাকোয়া কালচার লিমিটেড।

এছাড়া অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে- সাতক্ষীরার দেবহাটার আলহেরা মৎস্য প্রকল্প, খুলনার রূপসার ফ্রেস ফুডস লিমিটেড, জেমিনি সি ফুডস লিমিটেড এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের নলতা আহসানিয়া ফিস লিমিটেড। এছাড়াও কক্সবাজারের আরো চারটি প্রতিষ্ঠানকে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারাও খুব শিগগিরই ভেনামির আবাদ শুরু করবে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোনা ছাড়ার পর থেকে সাত সপ্তাহ পর্যন্ত চিংড়িতে রোগবালাই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ বিপজ্জনক সময় অতিক্রমে পুকুরের পরিবেশ, ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগবালাই প্রতিরোধব্যবস্থা পরিদর্শন এবং চিংড়ির ফিজিক্যাল গ্রোথ পরিমাপে নমুনা পরীক্ষা করেন একটি বিষেশজ্ঞ টিম।

তাদের মতে, ভেনামির পোনা ছাড়ার পরের ৬৮ দিনে গ্রোথ ও ফার্টিলিটি রেট খুবই আশাব্যঞ্জক। প্রতিটির ওজন ৮ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ২৫ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। গড় ওজন পাওয়া গেছে ৮.৭৫ গ্রাম। ভেনামি চিংড়ির উৎপাদনকাল ১২০ দিন। প্রথম ৬০ দিনে এদের যে গ্রোথ হয়, পরবর্তী ৬০ দিনে তার তিন গুণেরও বেশি হয়। সে হিসেবে আশা করা যায় চিংড়ি ধরবার সময় প্রতিটির গড় ওজন পাওয়া যাবে ২৫ গ্রাম।

ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, কাঁচামাল হিসেবে চিংড়ির অভাবে মাছ কোম্পানিগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। দেশে উৎপাদিত চিংড়িতে যে কয়টি কোম্পানি চালু আছে সেগুলোর সক্ষমতা ও ধারণ ক্ষমতার মাত্র ১৮-২০ শতাংশ চাহিদা মিটছে। ফলে প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচও বেশি হচ্ছে।

তবে ভেনামি চাষে আশার কথা হলো, প্রতি হেক্টরে যেখানে বাগদার উৎপাদন পাওয়া যায়, ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি। সেখানে ভেনামির উৎপাদন সাত থেকে আট হাজার কেজি পর্যন্ত সম্ভব। বাগদা কয়েকবার চাষ হলেও গলদার চাষ হয় বছরে একবার। ভেনামির রোগ প্রতিরোধ এবং জীবন ধারণ ক্ষমতা বাগদার তুলনায় বেশি। কিন্তু ভেনামি চাষ করা যায় বছরে তিনবার। ভেনামি চিংড়ি চাষ ব্যাপকভাবে করতে হলে দেশেই ভেনামির এসপিএফ পোনা উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চিংড়ি শিল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নানা সংকটে ক্রমশ উৎপাদন হ্রাস পাওয়া দেশিয় বাগদা ও গলদা চিংড়ি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতার মুখে সুবিধা করতে পারছে। পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক বাজার চলে যাচ্ছে ভেনামি চাষকারী চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দখলে। অবস্থার উত্তরণে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে নামি চাষের বিকল্প নেই বলেও হুঁশিয়ার করেন তারা।

সর্বশেষ রোববার (২২ মে) দুপুরে পাইকগাছার লোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্পের ২টি পুকুরে নমুনয়ন ও পরিদর্শন করেন, খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) ডিপিডি এটিএম তৌফিক মাহমুদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ এবং এম ইউ সি ফুড লিমিটেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

এ সময় তারা পোনা অবমুক্তির ১২তম দিনে প্রগ্রেসের হার সন্তোষজনক বলেও জানান।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এনজে

চাষি,চিংড়ি,স্বপ্ন,প্রকল্প,ভেনামি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close