• মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

থানা হাজতে ধর্ষণ, রেল পুলিশের সাবেক পরিদর্শক কারাগারে

প্রকাশ:  ২৩ মে ২০২২, ১৩:২১
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি ও সাবেক রেলওয়ে পুলিশ পরিদর্শক উছমান গনি পাঠানকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২২ মে) দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ নথির বরাত দিয়ে জানান, ভিকটিম ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার যশোরে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরের দিন শুক্রবার যশোর থেকে ট্রেনে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ট্রেনে ওঠার পর টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর একজন নারী পুলিশসহ আরও দুইজন পুলিশ তাকে কোনো কিছু না বলে আটক করে। ওই সময় উপস্থিত নারী পুলিশ তাকে চড় মারে। এতে তার বাম চোখ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুরের দিকে ট্রেন খুলনায় পৌঁছালে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে কন্যা সন্তান ছিল।

নথির বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, পুলিশ পরিদর্শক উছমান গনি থানায় আসলে আটক হওয়া নারী বলেন, আমার কাছে পুলিশ কোনো কিছু পায়নি তবে কেনো আমাকে আটক রাখা হয়েছে? তখন গারদ থেকে বের তাকে অফিস রুমে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অন্যান্য পুলিশ সদস্যকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকেন এবং এক সময়ে তাকে ফ্লোরে ফেলে দেন। পরে তিনি চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর পর রাত একটার দিকে আবারও থানায় আসেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। রেলওয়ে থানার এক ডিউটি অফিসার রাতে চোখ বেঁধে তাকে ওসির রুমে দিয়ে আসেন। ওড়না দিয়ে মুখ বাঁধা হয়। যেন চিৎকার করতে না পারে। চোখের বাঁধন খোলার পর পরিদর্শক উছমান তাকে বলতে থাকে কোথায় লেগেছে। এরপর ওই নারীকে ধর্ষণ করেন খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ পরিদর্শক উছমান গনি পাঠান। ৪৫ মিনিট যাবত তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। মামলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

এ ঘটনায় ভিকটিম খুলনা রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শকসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নামে রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন (যার নং-৩, তাং- ০৯/০৮/২০১৯)।

এর পর আলোচিত এ ঘটনায় ব্যাপক দেশব্যাপী তোলপাড় হলে তদন্তে মাঠে নামেন রেলওয়ে সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি উছমান গনির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এনজে

থানা হাজতে ধর্ষণ,রেল পুলিশের,সাবেক পরিদর্শক,কারাগারে
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close