• রোববার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

পাচঁ প্রতারকের কারসাজিতে বসত-বাড়ি হারাচ্ছে নবগঙ্গা নদী পাড়ের মানুষ 

প্রকাশ:  ১৪ মে ২০২২, ২০:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

নড়াইল জেলা লোহাগড়া উপজেলাধীন দিঘলিয়া ইউনিয়নের নবগঙ্গা নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে আনুমানিক ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে। হাটপাচুড়িয়া থেকে মহাজন কলাগাছী এলাকা পর্যন্ত ধীরে ধীরে খন কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এই মধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি রয়েছে ৩০ শতাংশ খনন কাজ। আর এই খনন কাজ কে ঘিয়ে প্রতারকরা তাদের জাল ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অসহায় হচ্ছে নদী পাড়ের অসহায় মানুষগুলো।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুরাতন নদী খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নদীর দুপাশের বসতীদের জন্য টাকা বরাদ্দ করেছেন।কিন্তু এসবের কিছুই পাইনি তারা। তবে নদীর পাড়ে বসবাসকারীদেরকে কিছু প্রতারক প্রতরোচনা, মিথ্যা আশ্বাস ও লোভ-লালসা দেখিয়ে তাদের থেকে সম্মতি নিয়ে নেয়। সেই থেকে নদী খননের ঠিকাদারের কাছ থেকে গোপনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। সেই টাকার কোনো অংশই নদীপাড়ের মানুষকে দেওয়া হয়নি। সুকৌশলে এই পাচঁ প্রতারক নদী পাড়ের মানুষের কাছ থেকে তাদের জমির দলিলসহ কাগজ পত্র হাতিয়ে নেয়। সেই থেকে অসহায় মানুষরা তাদের টাকার ব্যপারে জানতে গেলে প্রতারকরা বিভিন্ন সময় আলোচনা করে শান্তনা ছাড়া কিছু দেন না।

নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে থেকে প্রতারণার স্বীকার মো: ডাবু মোল্লা বলেন, আমাকে জমি দিয়ে টাকা পাইয়ের দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আসছে ৫ প্রতারক। আমাকেসহ আরও কয়েকজনকে টাকা দিবে বলে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারের নিকট হতে ৫ জন প্রতারক গোপনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলে মাটি বিক্রি করে আসছে। আমাদের দিয়ে মিঠু মোল্লা নামের একজন খনন কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়ে সেই ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নেয়। পরে আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আবার খনন করতে আসলে স্থানীয়দের সাথে সমস্য বেধে যায়।

নজরুল ইসলাম নামের এক ভুক্তোভোগী বলেন, আমাদের এখানে নদীর দুই পাশে প্রায় ৪৮৩টি পারিবার রয়েছে, এতে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ জমির মালিক রয়েছে। এই মানুষগুলো কালু বিশ্বাস, মিঠু শেখ (ইতনা কলেজ শিক্ষক), মোঃ ওমর খাঁন, মোঃ ফারুক মুন্সি ও আব্দুর রউফ নামের ৫ জন প্রতারকের ফাঁদে পেরে সর্বহারা হয়ে পড়েছে। চোখের জলে ঘরবাড়ি সড়ি নিতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয় এক প্রভাবশালীর নাম ব্যবহার করে এই পাঁচজন প্রতারক ৪৮৩ টি পরিবারে নিঃশ্ব করতে চলেছে। হাটপাচুড়িয়া থেকে মহাজন কলাগাছী পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর বসবাস। হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কোনো সমাধান ছাড়া নদী খনন করা যাবে না। কিন্তু ঐ সমস্ত জমির মালিকানাদের মিথ্যা আস্বাস দিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে পাঁচ প্রতারক ঠিকাদারদের দিয়ে জমির মাটি কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় টাকার মিনিময়ে। এদের ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমির মালিকদের দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে ভরে। আর জমির মালিকরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।

নদীর পাড়ের বসতবাড়ির মালিক ও জমিগুলো নিয়ে মামলাকারী মোঃ চান মিয়া শেখ, বুলু মোল্যা, ইমামুল মোল্যা, বাচ্চু শেখ, লালন শেখ ও মুকন্দ মন্ডলসহ আরোও অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেই ৫ প্রতারক সকলকে ঠকিয়েছে। তারা এর সঠিক বিচার চায় এবং তাদের যৌতিক ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ফিরে পেতে চায়। সেই সাথে নামধারী ৫জন প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি চেয়েছেন তারা।

এসব বিষয়ে রুপালী কনকস্টাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বাত্বাধীকারী টিপু সুলতান বলেন, এটা একটা সরকারী কাজ। আমাদের মত আরও ঠিকাদার এখানে নদী খননে কাজ করছে। নদীর দুই পাশের জমির মালিকদের কাছে সরকার কিভাবে তাদের লিজ দিয়েছে আমরা তা জানি না। আমরা খনন করার কাজ পেয়েছি তা করে যাচ্ছি। কিন্তু এর মধ্যে স্থানীয়দের উষকিয়ে শোহান সরদার, নিজাম, ইনু, শাহিন ভূঈয়া, আফজাল ও ফারুফ নামের কয়েকজ আমদের কাছে বিভিন্ন ভাবে নানা অঙ্কের চাদা চায়। এরা ওই পাচঁ জনেরই লোক। এদের দিয়ে তারা টাকা নেয়। কাজ শুরু করলেই এরা এসে হাজির টাকা নেওয়ার জন্য। এদের টাকা না দিলে কাজ করা যায় না। এরা যে কোনা উপায়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিতে চায়। এদের জন্য থানায় বারবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআইএস

প্রতারক, কারসাজি, বসত-বাড়ি, নবগঙ্গা নদী,প্রতারক,সাজি,,বসত-বাড়ি,নবগঙ্গা নদী,কারসাজি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close