• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

পশু চিকিৎসক করলেন সিজার, রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশ:  ০৫ মে ২০২২, ১৫:৩৭ | আপডেট : ০৫ মে ২০২২, ১৫:৪২
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক পশুর চিকিৎসক দিয়ে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৪ মে) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া প্রসূতির নাম শরীফা আক্তার (১৯)। তিনি ওই গ্রামের হাইছ উদ্দিনের মেয়ে ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এলাকায় মহসিন মিয়ার স্ত্রী। তিনি এবার বারহাট্টা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছিলেন।

অভিযুক্ত ওই পশু চিকিৎসক একই উপজেলার জীবনপুর গ্রামের আবুল কাশেম। তিনি স্থানীয় এলাকার একজন পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়রা জানায়, কিছুদিন ধরে তিনি পশুর পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসাও করেন। আবুল কাশেম গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে হেরে যান।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীফা বারহাট্টা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাশ করেছে। গত বছর পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর এলাকায় বিয়ে হয় শরীফার। তার স্বামীর নাম মহসিন মিয়া। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে গত সপ্তাহে স্বামীর বাড়ি থেকে চন্দ্রপুর বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

বুধবার ঘটনাটি ঘটার পর উপস্থিত লোকজন ওই পশু চিকিৎসকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে মারমুখী হয়ে উঠলে কয়েকজন ওই চিকিৎসককে বাড়ির পেছন দিয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, কাশেম একজন পশু চিকিৎসক। মানুষের চিকিৎসা করা তার ঠিক হয়নি। তারপর পর্যাপ্ত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ছাড়া রোগীর বাড়িতে এসে সিজার করল কিভাবে তা বোধগম্য নয়।

ভুক্তভোগীর মা মাফিয়া আক্তার খাতুন বলেন, ‘সকালে শরীফার প্রসব ব্যথা শুরু হলে কাশেম ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি রোগীকে দেখে বললেন, সবকিছু স্বাভাবিক আছে কোন সমস্যা নাই। আমরা নেত্রকোনা নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার কথায় ভরসা পেয়ে আর নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ডাক্তারের কথা মতই সব করেছি। পরে এক পর্যায়ে তিনি সিজার করেন। পরে ওষুধ-স্যালাইন না থাকায় এগুলো আনতে একজনকে মোহনগঞ্জ পাঠানো হয়। তবে ওষুধ নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়।’

শরীফার চাচা গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম বলেন, ‘আবুল কাশেম একজন পশু চিকিৎসক। তবে মাঝে মাঝে মানুষের চিকিৎসাও করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ছাড়াই শরীফার সিজার করে ফেলেন। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে একজনকে ওষুধ আনতে পাঠানো হয় মোহনগঞ্জে। অনেক দূরের পথ হওয়ায় ওষুধ নিয়ে আসতে আসতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়। এদিকে টানা হেঁচড়া করতে গিয়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া ছেলে সন্তানেরও মৃত্যু হয়।’

বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, ‘কাশেম একজন পশুর চিকিৎসক। মানুষের চিকিৎসা বিশেষ করে সিজার করা তো তার একেবারেই উচিত হয়নি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি প্রসূতির সন্তান প্রসব করাতে চাইনি। পরিবারের সদস্যরাই আমাকে জোর করে এই কাজ করিয়েছে। সিজারের পর ওষুধ আনতে পাঠানো হয়েছিল। দূরের পথ ওষুধ ও সেলাই আনতে দেরি হওয়ার এ ঘটনা ঘটেছে।’

শুধু পশু নয় মানুষের চিকিৎসার সনদও তার আছে বলে দাবি করেছেন।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার জাহান ওসমানি বলেন, ‘সিজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি এমবিবিএস ছাড়া কারো করার নিয়ম নেই।’

জানতে চাইলেবারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুল হক বলেন, বিষয়টি শুনে গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। এরপরও ঊধ্বর্তনদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বপশ্চিম- এনই

নেত্রকোনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close