• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

পুলিশ কনস্টেবলের বিসিএসে উত্তীর্ণের মিথ্যা গল্প

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২২, ১৮:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

৪০তম বিসিএসে পুলিশের এএসপি (সহকারী পুলিশ সুপার) হিসেবে এক কনস্টেবলের উত্তীর্ণের ঘটনাটি মিথ্যা হিসেবে জানা গেছে। এমন কি আবদুল হাকিম নামে ওই কনস্টেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তো দূরের কথা, পরীক্ষাই দেননি।

পুলিশ কনস্টেবল আবদুল হাকিম দাবি করেছিলেন, ৪০তম বিসিএসে তিনি পুলিশ ক্যাডারে ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। অথচ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তালিকায় সেই স্থান লাভ করা ব্যক্তির রোল নম্বর ১৬০০৪৩৯১, যা কিনা সিলেট অঞ্চল থেকে আবেদন করা এক পরীক্ষার্থীর। তার নাম সঞ্জীব দেব। আর আবদুল হাকিম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, সঞ্জীব দেব শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রথম বিসিএসেই পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এ মেধাবী।

এ বিষয়ে সঞ্জীব দেব বলেন, আমি পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার পজিশন ৬৭তম। সঞ্জীবের দেখানো প্রবেশপত্রেও এর সত্যতা মেলে।

আবদুল হাকিম বলেন, ২০১০ সালে সায়দাবাদ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছি। এরপর রায়পুরা কলেজ থেকে ২০১২ সালে সম্পন্ন করি উচ্চমাধ্যমিক। ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হই নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। এর কিছুদিন পর পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়।

আবদুল হাকিম আরও বলেন, দুই বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে আবেদন করি। প্রিলিমিনারিতে কৃতকার্য হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিই। চলতি বছরের ৩০ মার্চ ৪০তম বিসিএসের ফলে পুলিশ ক্যাডারের মেধাতালিকায় ৬৭তম হিসেবে জায়গা করে নিই।গুলশানে পোস্টিং থাকা অবস্থাতেই ভাইভা দেই। গত বছরের ২৩ মার্চ আমার ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর কয়েকদিন পরই ৩০ মার্চ থেকে করোনার কারণে ভাইভা পরীক্ষা স্থগিত করে পিএসসি।

তবে সূত্র অবশ্য বলছে, ৬৭তম পজিশনে থাকা রোল নম্বরের পরীক্ষার্থীর ভাইভা হয়েছে গেল ফেব্রুয়ারি মাসে। আর পিএসসির তালিকায় নাম থাকা সঞ্জীব দেবও জানালেন তিনি ওই সময়েই ভাইভা দিয়েছেন। ২০২০ সালের ৪ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। আবদুল হাকিমের দাবি অনুযায়ী, তিনি ওই পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর ছবি আপলোড দেন তিনি। যদিও বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হওয়ার পরই এসব ছবি ফেসবুক থেকে ডিলেট করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক পাস করার কথা বললেও ওই বছরের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণদের তালিকায় আবদুল হাকিমের নাম নেই। এমনকি ২০১২-১৩ শেসনের শিক্ষার্থীদের তালিকায়ও তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছেন, ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা অনার্স শেষ করেছেন ২০১৭ সালে। ওই বছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করা তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রত্যেকেই জানান, আবদুল হাকিম নামে কেউ তাদের সহপাঠি ছিলেন না। তবে সিনিয়র বা জুনিয়র কেউ এ নামে থাকতে পারেন।

২০১৩ সালে পুলিশে যোগদান করার পর প্রথমে গাজীপুরে শিল্প পুলিশে পোস্টিং হয় হাকিমের। কিন্তু ২০১৫ সালে বদলি হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) আসেন, পোস্টিং হয় পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগে। সেখানে থাকা অবস্থায়ই নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে অনার্স শেষ করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জেএস

৪০তম বিসিএস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close