• সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

রাউজানে সূর্যমুখীর হাসি

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২২, ১৭:৫৯
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

গ্রামীণ জনপদের সবুজে সয়লাব বিস্তীর্ণ কৃষি জমির মাঝেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী ফুলের এক একটি নান্দনিক বাগান। প্রতিটি গাছেই হলদে বর্ণের গোলাকার সূর্যমুখী ফুলের উপচে পড়া হাসিতেই যেন প্রকৃতির বুকে ফুটে উঠেছে অনিন্দ্য সুন্দর এক ছবি। যার মোহনীয় রূপে মুগ্ধ হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দেখা যাচ্ছে এই অপরুপ দৃশ্য। ফলে রাউজানের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষি জমিতে এখন চোখে পড়ছে উপচে পড়া সৌন্ধর্য্য।

কম পুঁজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় রাউজান উপজেলায় প্রতি বছর বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ। গত বছর ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষের সফলতায় কৃষকরা চলতি বছর ৩২ হেক্টর জমিতে প্রণোদনা ও সরকারের উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে হাইচান-৩৩ ও বারি সূর্যমুখী-১ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন।

আগামী বছর থেকে এই আবাদ শত হেক্টর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাবাদ কৃষি কর্মকর্তাদের। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, প্রতি হেক্টর থেকে ৩ টন বীজ উৎপন্ন হয়। প্রতি ১২ কেজিতে ৩ থেকে ৪ লিটার সূর্যমুখী তেল পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাউজানের হলদিয়া, চিকদাইর, ডাবুয়া,কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন, পাহাড়তলী, বিনাজুরী, পশ্চিম গুজরা ও রাউজান পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে ৭২ হেক্টর জমিতে।

চিকদাইর ইউনিয়নের কৃষক মোঃ হানিফ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণ বীজ পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কৃষক আজগর ও নুরুল ইসলাম বলেন, খরচ তুলনামুলক কম, ফলন ভালো হলে মুনাফাও বেশি তাই অন্যান্য ফলনের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষ করছেন তারা।

কৃষকদের পাশাপাশি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ তার কয়েক হেক্টর কৃষি জমিতে সূর্যমুখীর বাগান গড়েছেন।

উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রোকসানা মমতাজ ও মিল্টন দাশ বলেন, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্য বীজ, সার ও কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। যার সুফল কৃষকরা পাচ্ছেন।

এলাকার কৃষি জমিতে বোরোর আবাদে বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে হলদে বর্ণের সূর্যমুখীর বাগান যেন হয়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষকরা জানান, সূর্যমুখীর চাষাবাদে খরচ খুব কম। বর্তমানে ভোজ্য তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছেন এই চাষে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ এবং সার্বিক সহযোগিতার ফলে এই চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছর রাউজানে সূর্যমুখীর চাষ খুব ভালো হয়েছে।

গ্রামীন জনপদে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সূর্যমুখী ফুলের প্রতিটি বাগান যেন নান্দনিকরূপে পাখনা মেলেছে প্রকৃতির বুকে। হাতের কাছেই নান্দনিক সৌন্দর্য্যের সমাহার সূর্যমুখীর নয়নজুড়ানো দৃশ্য উপভোগ করতে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা ছুটে যাচ্ছেন বাগানগুলোতে। নান্দনিক সৌন্দয্য আর ভোজ্যতেলের চড়া বাজার দুয়ে মিলেই সূর্যমুখীর চাষে যেন কৃষকদের পালে লেগেছে নতুন হাওয়া।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এনইউআর/জেএস

রাউজান,চট্টগ্রাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close