• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

জন্ম সনদ নিতে যত ভোগান্তি

প্রকাশ:  ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ২০:২৫ | আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৪১
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

পাঁচ মাস আগে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ নিজের জন্মসনদ করাতে যশোরের মনিরামপুরের খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে আসেন উপজেলার মামুদকাটি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা দিয়েও জন্মসনদ হাতে পাননি তিনি। দিনের পর দিন পরিষদের বারান্দায় ঘুরে উদ্যোক্তা দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি।

একইভাবে সাতমাস আগে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার কাছে বয়স সংশোধনের জন্য আবেদন করেন টেংরামারী হাইস্কুলের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম। আজও সঠিক জন্মসনদ পায়নি সে। পরিষদের উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন তাকে আজ না কাল এভাবে করে অনেকদিন যাবৎ ঘুরাচ্ছেন।

জন্মসনদের আবেদন দিয়ে, এই রকম হয়রানির অভিযোগ খেদাপাড়া ইউনিয়নের শতশত মানুষের। দিনের পর দিন পরিষদে হেঁটেও জন্মসনদ পাননা বলে অনেকের অভিযোগ। পরিষদের উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন টাকা নিয়ে কাজ না করে তাদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

এদিকে ভোগান্তির পর জন্মসনদ হাতে পেলেও সেখানে থাকছে নানা ভুল। ফলে বাড়তি টাকা দিয়ে আবারো নতুন করে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজনদের।

ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের ভ্যান চালক মতিয়ার রহমান ছেলের জন্য জন্মসনদের আবেদন করে পেয়েছেন বহু পরে। সে সনদ নিয়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলে আদম আলীকে ভর্তি করাতে যেয়ে ফিরে এসেছেন তিনি। পরিষদ থেকে সরবরাহ করা শিশু আদম আলীর জন্মসনদটি ভুলে ভরা। সনদে দেখা গেছে পিতা মতিয়ার রহমানের নামের স্থানে লেখা হয়েছে তার মাতা ফেরদৌসী খাতুনের নাম। আর মাতার নামের স্থানে লেখা হয়েছে শিশুটির বাবার নাম। তাও আবার বাবার নামের আগে মোছাঃ লিখা।

মতিয়ার রহমান বলেন, আমি লেখাপড়া জানিনে। জন্মসনদ নিয়ে স্কুলে ছেলেরে ভর্তি করাতি গিলি স্যারেরা বলেছে এ সনদ ভুল। পরে ছেলেরে ভর্তি না করায়ে ফিরে আইছি। তিনি আরো বলেন, সনদ ঠিক করে আনতি কদিন আগে পরিষদে গিলাম। সচিব কলে কয়দিন পরে আসেন।

আরেক ভুক্তভোগী হারুর-অর-রশিদ বলেন, আমার নিজের, স্ত্রী রুবিনার, দুই মেয়ে রুনা আর মারিয়ার জন্ম নিবন্ধন করাতি পাঁচমাস আগে পরিষদে গিছি। উদ্যোক্তা আনোয়ার ৮০০ টাকা চাইছে, টাকা দিছি। এরপর থেকে পরিষদে হাঁটা শুরু। আজ না কাল এভাবে আমারে হাঁটাচ্ছে উদ্যোক্তা। ১০-২৫ দিন আগে একদিন দুপুরে গিছি। রাত ৮ টা পর্যন্ত বসে ছিলাম। পরে খালি হাতে ফিরে আইছি।

তিনি আরো বলেন, বড় মেয়ে রুনা ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। ওর স্কুল থেকে জন্মসনদের জন্যি চাপ দেচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) পরিষদে যেয়ে বসে ছিলাম। পরে শুনি আমার আবেদন হারায় গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও মূলত পরিষদে আসেন আনোয়ার হোসেন। তার স্ত্রী পরিষদে আসেননা। ফলে জন্মসনদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা মানুষদের।

এদিকে ভুলে ভরা জন্মসনদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল করা হয়েছে খেদাপাড়া ইউপির সচিব মৃনাল কান্তিকে। তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা সহকারী প্রগ্রামার প্রহল্লাদ দেবনাথ বলেন, হারুর-অর-রশিদের জন্ম সনদের বিষয়ে উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছি। সে কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি আনোয়ার হোসেনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি। সামনে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানানো হবে।

খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, হারুনের আবেদন খুঁজে পাচ্ছে না উদ্যোক্তা। আমার কাছে হারুন এসেছিলেন। তাকে বলেছি আগামী রোববার নতুন আবেদন দিতে। আবেদন পেলে ওই দিনই আগের খরচে তার জন্মসনদ করে দেব।

চেয়ারম্যান বলেন, ইতিমধ্যে আমি পরিষদে নতুন লোক নিয়োগ দিয়েছি। উদ্যোক্তা আনোয়ারের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ। বিষয়টি ইউএনওকে লিখিত আকারে জানিয়ে তাকে সরানোর ব্যবস্থা করছি।


পূর্বপশ্চিম/এএন

যশোর,মনিরামপুর,জন্ম সনদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close