• বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮
  • ||

নৌকার বিরুদ্ধে ভোট দিলে পাঁচ লাশ ফেলার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

প্রকাশ:  ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৭:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ ভোট দিলে পাঁচটি লাশ ফেলার হুমকি দিয়েছেন ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম। তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় লাপাং স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকাশ্যে এই হুঁশিয়ারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বক্তব্য নিজের বলে স্বীকার করেছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।

সম্পর্কিত খবর

    জানা যায়, রোববার (২৮ নভেম্বর) নবীনগর পশ্চিম ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীসহ চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ মিয়া।

    বৃহস্পতিবার রাতে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে ইউনিয়নের লাপাং স্কুলে এক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।

    সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা ও ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রশাসন কাজ করুক বা না করুক নৌকার বিরুদ্ধে যদি একটা ভোটও কাটে, ওই ওয়ার্ডে পাঁচটা লাশ পড়বে ইনশাল্লাহ। লিডার ছাত্রলীগতো, আবেগে চইলা আসছে। ইনশাল্লাহ নৌকার বিপক্ষে কেউ ভোট কাটতে পারবে না। আমরা শক্ত হাতে প্রতিবাদ করবো।’

    তার এ বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    জানতে চাইলে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বক্তব্যটি নিজের স্বীকার করে বলেন, আমাদের সভা চলাকালে পাশের চিত্রী গ্রামে নৌকার বিপক্ষে ভোট কাটা হবে বলে খবর পেয়েছিলাম। তাই মুখে এমন কথা এসে গেছে। আসলে বয়স অল্পতো, বিবেকের তাড়নায় তখন বলে ফেলেছি নৌকার বিপক্ষে যদি কেউ ভোট কাটতে আসে দরকার হলে পাঁচটা লাশ ফেলবো। আবেগে বলে ফেলেছি, নিউজ না করলে খুশি হবো।

    এ বিষয়ে জানতে সভায় উপস্থিত থাকা প্রধান অতিথি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামালের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, এমন বক্তব্যের বিষয়টি আমি অবগত নই। যদি কেউ এমন বক্তব্য দিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close