• শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করবেন না: শাওন

প্রকাশ:  ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১৬:২২
গাজীপুর প্রতিনিধি

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই না করার অনুরোধ জানিয়েছেন সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন। শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জিয়ারত, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ অনুরোধ করেন।

এসময় তার সঙ্গে শিশু পুত্র নিশাত ও নিনিদসহ নুহাশপল্লীর স্টাফ এবং হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কবর জিয়ারত, দোয়া ও পুষ্পস্তক অর্পণ করে দুই পুত্রকে নিয়ে কেক কাটেন শাওন। এছাড়া সকাল থেকেই ভক্তরা দুর-দূরান্ত থেকে এসে প্রিয় লেখকের কবরে শ্রদ্ধা জানান এবং নুহাশ পল্লী ঘুরে দেখেন।

সম্পর্কিত খবর

    মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে অনেকে গবেষণা করছেন। অনেকেই তাকে নিয়ে চর্চা করছেন। সেই চর্চাটা বাড়ুক। সবাই তার সম্পর্কে জানুক। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে পিএইচডি হচ্ছে। তাকে নিয়ে ভুল কোন চর্চা না হোক এটা আমার প্রত্যাশা। কারণ হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের সম্পদ, সে সম্পদ নিয়ে ভালো মতো চর্চা হোক। হুমায়ুনহীন হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন হলো ১০ বার।

    তিনি বলেন, যারা হুমায়ুন আহমেদকে ভালোবাসেন, যারা হুমায়ুন আহমেদের পাঠক, হুমায়ুন আহমেদের নাটকের-সিনেমার দর্শক, হুমায়ুন আহমেদের গানগুলো যারা ভালোবাসেন, তারা হুমায়ুন আহমেদকে আজীবন ভালোবেসে যাবেন। তারাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হুমায়ুন আহমেদের লেখা ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরবেন। এটাই আমার এবং আমাদের পরিবারের আজীবনের প্রাপ্তি হবে। যারা হুমায়ুনকে ভালোবাসেন, তাদের অনেকেই হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে কাজ করতে চান। তবে অনুরোধ করছি, তাকে নিয়ে যা ইচ্ছে তা কেউ করবেন না।

    তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করার চেষ্টা বা হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে ঠাঁস করে একটা সিনেমা বানিয়ে ফেলা, একটা বই লিখে ফেলা বিষয়টি নিয়ে আমার খুব খারাপ লেগেছে।

    হুমায়ুন আহমেদের জীবদ্দশায় লিখেছেন দুই শতাধিক উপন্যাস। এ ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ উপন্যাস দু’টি দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কবি’, ‘বাদশা নামদার’সহ অসংখ্য উপন্যাসে। তার অমর সৃষ্টি ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’।

    হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে ভূষিত হয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কারে। এরমধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সময় দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

    পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close