• মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
  • ||

ফের জলদস্যুতা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: র‌্যাব এডিজি

প্রকাশ:  ০১ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৫৩
বাগেরহাট প্রতিনিধি

‌‘স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা জলদস্যুদের মধ্যে যারা আবারো বিপথে যাবেন, তাদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের রামপালে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ও আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠান-২০২১ উপলক্ষে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল কে এম আজাদ এ কথা বলেন।

সম্পর্কিত খবর

    তিনি বলেন, যে কোনো উপায়ে আমরা এই সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে রাখবো। নতুন করে কোনো জলদস্যু যেন দল করতে না পারে, কোনো ইন্ধনদাতা যেন এই সমস্যাকে জাগিয়ে তুলতে না পারে, সেজন্য আমরা সবসময় সজাগ আছি।

    কর্নেল কেএম আজাদ বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে র‌্যাবের সকল সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদের গোয়েন্দারা সবসময় নজরদারি করছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।

    তিনি বলেন, আমি এতটুকু বলে দিতে চাই, কেউ যদি এই সুযোগ নিতে শুরু করে তাহলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনবে। কেননা র‌্যাব পূর্বের চেয়ে আরও বেশি দায়িত্ব পালনে সক্ষম। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কারণে এখন পূর্বের অবস্থান থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকায় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব।

    ‘আমি বলতে চাই, যারা বিপথে যাবেন, তাদের পার পাবার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো উপায়ে আমরা এই সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে রাখবো।’

    কর্নেল আজাদ বলেন, সাবেক গোয়েন্দা প্রধান শহীদ লে. কর্নেল আজাদসহ যেসব সদস্য জীবন দিয়েছেন তাদের কারণে র‌্যাব ১৭ বছরের অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সম্মান রইল। ২০১৮ সালের এই দিনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুন্দরবনের বিশৃঙ্খল জীবনের অবসান ঘটেছিল। তিনি এ দিনে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন ঘোষণা করেছিলেন। সুন্দরবনে এই জলদস্যু দমনে যে অভিযানিক কৌশল এবং বাস্তবায়ন, এটি একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। র‌্যাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর যে নির্দেশনা তার টেকসই অর্থাৎ স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমানে আমরা যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছি, সেই পরিবেশকে ধরে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে র‌্যাব মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়কারী করে সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। এর মধ্যে পার্বত্য শান্তি প্রক্রিয়া, চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, মাদক এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা। সেই সঙ্গে সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে র‌্যাবের সকল সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

    জলদস্যুদের উদ্দেশে র‌্যাব এডিজি বলেন, আপনারা সত্যের পথে থাকুন, যতদিন সুপথে থাকবেন ততদিন আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং ক্রমন্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। এক বছর ধরে র‌্যাব মাঠ পর্যায়ে পুনর্বাসন চাহিদা সমীক্ষা চালিয়ে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের তালিকা তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে ১০২টি ঘর, ৯০টি মুদি দোকান (মালামালসহ), ১২টি জাল ও মাছ ধরার নৌকা, আটটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা এবং ২২৮টি গবাদিপশু বিতরণ করা হয়েছে। যা তাদের জীবন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close