• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

রাজশাহীতে অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দিনভর আন্দোলন 

প্রকাশ:  ৩১ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩৬
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী নগরীর শহীদ এএইএচ এম কামারুজ্জামান চত্বরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক রাজু আহমেদ। রোববার বেলা ১১টার দিকে তোলা ছবি।

কেউ ফুটপাতের খাবারের দোকানি, কেউ ছিনতাইকারী, কেউ মাদক ব্যবসায়ী। হঠাৎ করেই তারা ‘সাংবাদিক’ বনে গেছেন। নামসর্বস্ব অনলাইন আর নিজেদের ফেসবুকের টাইমলাইনে কিছু লেখা পোস্ট করেই তারা নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে বসেন। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজিই তাদের প্রধান কাজ। শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়েছেন রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকরা। তাদের গ্রেফতার আর প্রশ্রয়দানকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মনকে প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিকরা সড়ক অবরোধ করে দিনব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছেন।

রোববার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম প্রধান ব্যস্ততম এলাকা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে সড়ক অবরোধ করে সাংবাদিকরা অবস্থান নেন। বিকেল পাঁচটার দিকে তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার এবং তিন দিনের মধ্যে বোয়ালিয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ওসিকে প্রত্যাহার করা না হলে বুধবার দুপুর ১২টায় বোয়ালিয়া থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন কথিত সাংবাদিক মানববন্ধন করতে যান শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে।

রাজশাহীর সাংবাদিক নেতারা বলেন, একটি ভুঁইফোড় প্রেসক্লাবের ব্যানারে কথিত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করতে যান নগরের শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে। তারা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব, আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের পরিচালক এবং সহকারী পরিচালকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

তবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ওই তিন কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তারা তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন। তারা এ ব্যাপারে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে কারা মানববন্ধন করছেন, তা দেখতে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সাংবাদিক। রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকতার নামে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আয়োজকদের বলেন। আর তখনই পুলিশের সামনেই রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা করে কথিত সাংবাদিকরা। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে সিনিয়র ফটোসাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ এবং কাবিল হোসেনের ওপরও হামলা হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, মাজহারুল ইসলাম চপল, আবু কাউসার মাখন, হারুন, সুমন, রাজন, সোনা, লিয়াকত, রেজাউল করিম, রকি ও ফারুক হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কথিত সাংবাদিক তাদের ওপর হামলা চালান। তাদের মধ্যে লিয়াকত, রেজাউল ও ফারুক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ বিষয়ে তারা মামলা দায়ের করবেন।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ পাঁচ সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বোয়ালিয়া থানার ওসির অপসারণের দাবিতে সাংবাদিকেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে তোলা ছবি।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে কামারুজ্জামান চত্বরে রাস্তায় বসে পড়েন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা। এ সময় তারা হামলাকারী কথিত সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং নগরের বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মনের প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুরের দিকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরে সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও সেখানে যান। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার সাংবাদিক নেতাদের এ বিষয়ে নগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের সঙ্গে বসার অনুরোধ জানান।

আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব রাশেদ রিপন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান লিটন, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান জনি, প্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, ডেইলি স্টারের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার আলী হিমুসহ সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পুলিশ কমিশনার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিকরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ কমিশনারের কাছে গেলেও অন্য সাংবাদিকরা সড়ক অবরোধ করেই ছিলেন। প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পরও ওই আন্দোলন চলছিল। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, হামলাকারী কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক বলেন, ‘হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আর পুলিশ কমিশনার বোয়ালিয়ার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মনকে প্রত্যাহার করতে তিন দিন সময় চেয়েছেন। আমরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে ওসি প্রত্যাহার না হলে বুধবার দুপুর ১২টায় বোয়ালিয়া থানা ঘেরাও করা হবে।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রাজশাহী,সাংবাদিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close