• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

পুরুষশূন্য পীরগঞ্জের রামনাথপুর, চারদিকে ভয়ের আবহ

প্রকাশ:  ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৬ | আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৩
রংপুর প্রতিনিধি

একদিকে সব পুড়ে খাক। বিধ্বস্ত সবকিছু। মানুষ ও মানুষের আবাস কোনো কিছুই আর স্বাভাবিক নেই। সবকিছুতেই একটা অচেনা আবহ। একদিকে মানুষের নিষ্ঠুরতায় বিহ্বল সব হারানো মানুষ। এই ক্ষত তো সহজে ঘুচবার নয়। অন্যদিকে গ্রেপ্তার ও আটকের আতঙ্কে রয়েছে বাকিরা। বলা হচ্ছে, রংপুরের পীরগঞ্জের কথা।

১৭ অক্টোবর ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুরের জেলেপল্লিতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ২৪টি পরিবারের বসতঘর। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা হয়। এগুলোয় আসামি করা হয় পাঁচ শতাধিক লোককে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে চলছে অভিযান। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনে। সবখানেই একটা ভয়ের আবহ বিরাজ করছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের মন থেকে ভয় কাটেনি এখনো। আর হামলাকারী হিসেবে যাদের দিকে সন্দেহের তির, তারাও অনেকটা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

    আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে চেরাগপুরের পাশের বাজারে গিয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম মানুষ দেখা গেছে। পুরো এলাকায় ভয়ের আবহ। একটা গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে সবখানে। বাজারে শুধু দলীয় পরিচয়ের লোকজন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, বয়স্ক মানুষ ও দোকান ব্যবসায়ীদেরই শুধু দেখা মিলল। নতুন মানুষ দেখলেই সবাই সন্দেহ, ভয় ও কৌতূহলের চোখে দেখছে। স্থানীয়রা পুলিশ দেখে অভ্যস্ত হলেও তাদের সবচেয়ে বেশি ভড়কে দিয়েছে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি।

    বাজারেই কথা হলো রামনাথপুর ১৩ নম্বর ইউনিয়নের কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বললেন, সবাই খুবই ভয়ে রয়েছে। গ্রাম পুরুষ-শূন্য হয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম পীরগঞ্জে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে।

    একই কথা বললেন কৃষক লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. আনোয়ারুল মণ্ডল। একটা আতঙ্ক সবার মধ্যে কাজ করছে বলে জানালেন তিনি। এমন কিছু এর আগে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর হিন্দু-মুসলিম একত্রে বসবাস করে আসছি। তারা মাছ ধরে, মাছ ব্যবসা করে। আর সেই মাছ আমরাই কিনে থাকি। ফলে একজন আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল।’

    উপস্থিত অনেকের সঙ্গেই কথা হলো। তাঁরা বলেন, ‘এখানকার পুলিশ আমাদের সবাইকে চেনে। কিন্তু আমরা এখানে প্রথমবারের মতো বিজিবি দেখেছি। তারা আমাদের চেনেও না। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে অজানা ভয় বেড়েছে।’

    স্থানীয়দের দাবি, এখানকার মানুষ এ ঘটনা ঘটায়নি। কারণ, এখানকার মানুষ তখন ধর্মীয় অবমাননার বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে বৈঠক করছিল, আন্দোলন করছিল। সেখানে ৪০০-৫০০ মানুষ ছিল। যেখানে আন্দোলন ও বৈঠক হচ্ছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল আধা মাইল দূরে। আর সেখানে যাওয়ার যে রাস্তা, তা পুলিশ বন্ধ করে রেখেছিল। অন্য যে পথ রয়েছে, তা তিন কিলোমিটার ঘুরে প্রধান সড়ক দিয়ে আসতে হয়। এখন বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিল, তাদের ভিডিও ধরে এখানে ধরপাকড় চলছে। আর আগুনের সময় যে লুটপাট চলেছে, সেখানকার লুট করা গরু পাওয়া গেছে অন্য গ্রামে।

    তাহলে আগুন দিল কারা? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর সেখানে উপস্থিত মানুষ দিতে পারেনি।

    এ প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ছাদেকুল ইসলাম সাদেক বলেন, ‘মাগরিবের পর থানার ওসি ও সেখানকার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। শত শত মানুষকে আমরা জেলেপাড়ার দিকে এগোতে দিইনি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানেও নিয়ে আসি। কিন্তু আলোচনার মাঝখানেই দেখি উত্তর জেলেপাড়ায় আগুন জ্বলছে।’

    পিপি/জেআর

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close