• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

সনাতন ধর্মাবলম্বীর সৎকারে এগিয়ে এলো মুসলিমরা

প্রকাশ:  ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০৪
বরিশাল প্রতিনিধি

জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সনাতন ধর্মাবলম্বী অনিল চন্দ্র দাস নামের (৭৫) এক বৃদ্ধের মৃতদেহ সৎকার এবং সকল খরচ বহন করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুসলিম সমাজ। আজ রোববার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। অনিল চন্দ্র দাস ওই এলাকার মৃত ভবানী চন্দ্র দাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন অনিল চন্দ্র দাস। নিঃসন্তান হওয়ায় স্ত্রী আর নিজেই কোন রকম একটি বাড়িতে থাকতেন। চিকিৎসা বা সেবা করার মত পাশে কেউই ছিল না। এমনকি তাঁর অসুস্থতায় এগিয়ে আসেনি আত্মীয়-স্বজন বা নিজ ধর্মের কোন প্রতিবেশীরাও।

সম্পর্কিত খবর

    এ সময় তাঁর অবস্থার অবনতি হলে মানবতার কথা বিবেচনা করে এগিয়ে আসেন একই গ্রামের স্থানীয় মুসলিম পরিবারের সন্তান আলমগীর নামে এক ব্যক্তি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যান বরিশালে। চিকিৎসা শেষে বরিশাল থেকে গতকাল শনিবার অনিল চন্দ্র দাসকে নিয়ে নিজ বাসায় ফেরেন আলমগীর। এবং অসুস্থ হওয়ায় তাঁর বাড়িতেই রাখেন সেবা শ্রুশুষা জন্য। কিন্তু রোববার ভোর রাতে ৫টায় আলমগীরের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন অনিল চন্দ্র দাস।

    সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সকালে সনাতন ধর্মের লোকজন এবং মৃতের আত্মীয়স্বজনকে খবর দেন আলমগীর। কিন্তু করোনায় মৃত্যু হয়েছে এমন ভেবে ১২ ঘণ্টা আলমগীরের বাড়ির মধ্যেই পড়েছিল অনিল চন্দ্র দাসের মরদেহ। নিজের ধর্মের কেউ তো এগিয়ে আসেননি এমনকি তাঁর বাড়ির ত্রিসীমানায় পা রাখেননি কোনো আত্মীয়স্বজন। আত্নীয় এবং প্রতিবেশীরা এগিয়ে না আসায় গ্রামের মুসলমানরা এসে ওই বৃদ্ধের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেন।

    পরে স্থানীয় সংবাদকর্মী রাকিব হোসেন এবং সাইফুল ইসলাম আকাশ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন, স্ট্যাটাস দেওয়ার পরপরই বিষয়টি নজরে আসে বোরহানউদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কাচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রব কাজী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন হাওলাদারের।

    এরপর ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা। এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে বলেন ও সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি অমানবিক এবং স্পর্শ কাতর। আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন লোকও মৃতের সৎকার করতে রাজি হয়নি। পরে এলাকার মুসলিমরা এগিয়ে এসেছেন।

    কাচিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রব কাজী বলেন, সৎকারে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে এলাকার মুসলিমরা সৎকার করতে চাইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা কথা বলি। এবং সকল ব্যয় বহনের কথা বলি। পরে তারা সৎকার করতে রাজি হন।

    তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে এখনো কাজ সম্পন্ন হয়নি তবে রাতের মধ্যেই সৎকার সম্পন্ন করা হবে। এই ঘটনায় গোটা উপজেলায় চাঞ্চল্য যেমন ছড়িয়েছে ঠিক তেমনি গোটা এলাকায় সম্প্রীতির এক নতুন নজির যে তৈরি হলো সেটা পুনরায় প্রমাণিত হলো।

    পিপি/জেআর

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close