• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

তোর বেইমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম: ফেসবুকে যুবলীগ নেতা

প্রকাশ:  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৬ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২১
কুমিল্লা প্রতিনিধি

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম আমি।’ এভাবে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন কুমিল্লার এক যুবলীগ নেতা। এটা ছিল তার জীবনের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস।

ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পরই আত্মহত্যা করেছেন এমরান হোসেন মুন্না (২৯)। তিনি সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে এবং কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সদস্য। কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতেই বিয়ে করেন এমরান ও ঊষা। কিন্তু এক বছর না পার হতেই তাদের দাম্পত্যজীবনে নেমে আসে অশান্তি। স্ত্রী ঊষা ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে আরেকটি সম্পর্কে জড়ান তিনি। নানাভাবে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে ফেরাতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেন এমরান হোসেন মুন্না।

এদিকে স্ত্রী সৈয়দা সাজিয়া শারমিন উষার (২৮) বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা মতিউর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শহরতলীর বারপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে এমরান হোসেন মুন্না। লাকসামের রাজাপুর এলাকার খিলা বাজার গ্রামের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ঊষা। একসময় কুমিল্লা কর্মাশিয়াল ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) শিক্ষার্থী ছিলেন মুন্না ও ঊষা। দুজন এক বছরের সিনিয়র-জুনিয়র। কলেজজীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজন। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই তাদের পারিবারিক জীবনে টানাপোড়ন শুরু হয়। ঊষা ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। আর মুন্না প্রথমে কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করলেও পরে চাকরি ছেড়ে কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। দিনদিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

নিহত মুন্নার পরিবারের অভিযোগ, ঊষা ঢাকায় সোহেল নামে এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যাওয়ার কথা বলে কটাক্ষ করতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার মুন্না আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি পাঠায় এবং মেসেজ করে। কিন্তু স্ত্রী কর্ণপাত করেনি। কাউকে জানায়নি। বরং উল্টো উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেন। এতে মুন্না ক্ষোভে নিজ শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পরিবারের লোকজন আওয়াজ পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বাদ জোহর গুধির পুকুরপাড় ঈদগাহে মুন্নার জানাজা হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আর

ফেসবুকে যুবলীগ নেতা,যুবলীগ নেতা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close