• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

মালিক করছিলেন অপারেশন, ক্লিনিক সিলগালা

প্রকাশ:  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২২
যশোর প্রতিনিধি

হালনাগাদ অনুমোদন, অজ্ঞান চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা কিছুই নেই মনিরামপুরের মনোয়ারা ক্লিনিকের। নেই অপারেশন চিকিৎসকও। আছে শুধু কয়টি বেড আর কয়েকজন স্টাফ। এই দিয়েই ক্লিনিক চালাচ্ছিলেন মালিক আব্দুল হাই।

অবসরপ্রাপ্ত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হলেও সিজারিয়ান রোগী এলে তিনি নিজেই সাজেন চিকিৎসক। করেন অপারেশনও। ১০ বেডের পুরনো অনুমোদন থাকলেও ভিতরে বেড বসিয়েছেন ১৮টি। এভাবেই মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে দোতলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ক্লিনিক চালাচ্ছেন আব্দুল হাই।

মঙ্গলবার দুপুরে মুমূর্ষু এক সিজারিয়ান রোগী আসে তাঁর ক্লিনিকে। তখন আব্দুল হাই নিজেই অপারেশন থিয়েটারে রোগীর সিজার করেন। ঠিক ওই মুহূর্তে খবর পেয়ে ক্লিনিকে হাজির হন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। হাতেনাতে ধরে ফেলেন আব্দুল হাইকে। এসময় অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করেন তিনি।

বেডে অপারেশনের রোগী থাকায় ক্লিনিক খোলা রাখার জন্য সাত দিনের সময় দেন সিভিল সার্জন। সপ্তাহ পার হলে মনিরামপুর হাসপাতালের টিএইচও এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে ক্লিনিক সিলগালা করার নির্দেশনা দেন তিনি।

অভিযানে অংশ নেওয়া মনিরামপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ বসু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসময় মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা দেবনাথ, সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসক রেহেনেওয়াজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ডা. অনুপ বলেন, মনোয়ারা ক্লিনিকে অজ্ঞান চিকিৎসক নেই। সার্বক্ষণিক ভর্তি রোগী দেখভালের জন্য কোন চিকিৎসক নেই। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সও নেই। পুরনো কাগজপত্র দিয়ে ক্লিনিক চালানো হচ্ছিল। তাছাড়া মালিক আব্দুল হাই এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েও নিজে অপারেশন করেন।

ডা. বসু বলেন, রোকনুজ্জামান নামে একজনকে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক দেখানো হলেও সেই সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ক্লিনিক মালিক। নিজের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা দাবি করেছেন। তারও কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

ডা. অনুপ বলেন, এসব কারণে মনোয়ারা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা করা হয়েছে। ভর্তি রোগী সরানোর জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর ক্লিনিক সিলগালা করা হবে।

তবে ক্লিনিক মালিক আব্দুল হাই বলেন, অজ্ঞান ডাক্তার বাইরে ছিলেন। এ সময় সিভিল সার্জন অভিযান চালান। তিনি ছয় দিনের জন্য ওটি বন্ধ রাখতে বলেছেন।

এরআগেও মনোয়ারা ক্লিনিকে সিজারের পর এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জেল খেটেছেন মালিক আব্দুল হাই। তখনও তিনি নিজেই ওই রোগীর অপারেশন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

অপারেশন,ক্লিনিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close