• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

ব্যালটে সিল মারার সময় হাতেনাতে ৬ শিক্ষক-শিক্ষিকা আটক

প্রকাশ:  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৮
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সোমবার অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপারে সিল দিতে গিয়ে দু'টি ভোট কেন্দ্রে ছয়জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা হাতেনাতে আটক হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬নং কেন্দ্রে ও জাহাজমারা ইউনিয়নের ১৩নং কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আটকরা হলেন- হরনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও চরইশ্বর ইউনিয়নের ৬নং কেন্দ্র হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্ত্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান এবং সহকারী প্রিজাইর্ডিং কর্মকর্তা তবারকিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মো. বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া জাহাজমারা ইউনিয়নের ১৩নং কেন্দ্র হাজী মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সরকারী প্রিজাইডিং অফিসার আহমেদ রফিক। তিনি স্থানীয় হইক বাধা এম হোসাইনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, একই কেন্দ্রের সরকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. ছিদ্দিক উল্যা। তিনি পশ্চিম সোনাদিয়া আবদুল মতিন পণ্ডিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মুন্নি বেগম। তিনি দক্ষিণ পূর্ব নলচিরা হাজী কালামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এছাড়া আটক ফারজানা আক্তার মধ্য মাইজচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাদেরকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার হাতিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ২ জন নৌকা প্রতীক প্রার্থী ও ৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বিভিন্ন প্রকার হুমকি, ভোট ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে সোমবার সকালে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। নির্বাচন ধেকে সরে দাড়ানো প্রার্থীরা হচ্ছেন- বুড়িরচর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল, জাহাজমারা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী এটিএম সিরাজুল ইসলাম, সোনাদিয়া ইউনিয়নের নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল ইসলাম, চরইশ্বর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মেহরাজ উদ্দিন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো পাঁচজনই বর্তমান চেয়ারম্যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারবিহীন অবস্থায় ব্যালট পেপারে বিভিন্ন মার্কায় সিল মারছিলেন। এ সময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী কক্ষে গিয়ে দুই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ও বেলায়েত হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

অপরদিকে জাহাজমারা ইউনিয়নের হাজী মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ২টার দিকে দুই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আহমেদ রফিক, মো. ছিদ্দিক উল্যা ও পুলিং অফিসার মুন্নি বেগম ও ফারজানা আক্তারকে ভোটার বিহীন কেন্দ্রের ব্যালটে সিল দেওয়ার সময় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।

হাতিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আটকরা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়েছেন। তারা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনায় মামলা দেওয়ার পর পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কমিশন থেকে যখন সিন্ধান্ত আসবে তখন আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

পুর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নোয়াখালী,শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close