• রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

বিএনপি নেতার সভায় বক্তব্য রাখলেন আ.লীগের কাউন্সিলর 

প্রকাশ:  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৫৪ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১১
সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সভায় সাভার পৌরসভা আ'লীগের নেতা ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমজান আহমেদের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কাউন্সিলরের সমালোচনা করছেন আ'লীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে আইন অমান্য করে আয়োজিত সভাটি বন্ধ করে দেয় ধামরাই থানা পুলিশ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বক্তব্যের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া গ্রামের মসজিদের পাশে একটি সভায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রকাশিত একটি ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান একটি সভায় বক্তব্য রাখছেন। তার পাশেই টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছেন সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রমজান আহমেদ। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বিএনপি নেতার পাশে দাড়িয়ে হাত নাড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন আ'লীগের নেতা রমজান আহমেদ।

জানা যায়, বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান গত ১৯ আগস্ট ওই এলাকায় একটি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে থানায় মামলা, ডিসি ও এসিল্যান্ড অফিস ফাইল খরচ বাবদ টাকা চাওয়ার একটি বক্তব্যর ভিডিও ভাইরাল হলে সমালোচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি একই স্থানে প্যান্ডেল সাজিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে আরেকটি সভা আয়োজন করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে জনসমাগম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় থানা পুলিশ। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করেই সভা আয়োজন করা হয়। সেখানে সাভার থেকে কর্মী বাহিনী নিয়ে সভায় যোগ দেন কাউন্সিল রমজান আহমেদ। ধামরাই থানা পুলিশ এসে সভা পন্ড করলে প্রকল্প থেকে বেরিয়ে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে আবারো বক্তব্য শুরু করে বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর রমজান আহমেদ। সেখানেই ধারণ করা ভিডিওতে পাশাপাশি বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলরের চিত্র উঠে আসে। পরে অবশ্য সেখানেও গিয়ে বিএনপি নেতাদের ধাওয়া করে পুলিশ সভা পন্ড করে দেয়।

ছবিটি সাভার-ধামরাইয়ের বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের গ্রুপে শেয়ার হলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিএনপির সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে কাউন্সিলরের সমালোচনা করেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতা কমিশনার রমজানের ছত্রছায়ায় বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান ও যুবদল নেতা বদরুল সরদার ওরফে খাস বদু সংঘবদ্ধ হয়ে কুল্লা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যাবসায়িক প্রকল্প থেকে চাঁদা চাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগও হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রমজান আহমেদক প্রধান অতিথি করে একটি সভা আয়োজন করে। সভা শুরু হওয়ার পূর্বে উক্ত চাঁদাবাজ চক্রটি ঢাকা-২০ ধামরাইয়ের সংসদ বেনজির আহমেদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাদাঁ তোলা শুরু করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিষয়টি বেনজির আহমেদকে অবহিত করলে ধামরাই থানা পুলিশ উক্ত চক্রটির অন্যতম হোতা বিএনপি নেতা বদরুল সরদারকে চাঁদাবাজি মামলায় (মামলা নং ১২/৩১২, ধারাঃ ৩৪১,৩৮৫,৩৮৬) গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। চাঁদাবাজ বদরুল গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় সাধারণ মানুষ আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করে এবং স্থানীয় জনগণ সাভার থেকে এসে ধামরাইতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মদদ দেওয়ার জন্য রমজানের শাস্তি দাবি করে।

এ নিয়ে ধামরাই থানা আওয়ামী লীগ ও সাভার পৌর আওয়ামী লীগ মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় নেতারা বলছেন, হাইব্রিড লোকজন যারা কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি তাদেরকে এভাবে দলে এনে জনপ্রতিনিধি বানিয়ে দিলে ধীরে ধীরে তাদের আসল চরিত্র বেরিয়ে আসে। সুযোগ পেলেই দলের সাথে তারা এমন বেইমানি করে। দলকে ব্যবহার করে তারা সবসময় নিজের স্বার্থ উদ্ধার করেছে কিন্তু দলের উপকার হয় এমন কোন কাজ কোনদিনই তারা করেননি।

কবীর হোসেন নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, রমজান বেদে পল্লীর ছেলে। মাছ বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসা ও থানার দালালি করত। তারপর বেদে পল্লীর উন্নয়ন নিয়ে পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকতা কাজ শুরু করার পর বেদে পল্লীর প্রতিনিধি হিসেবে রমজানকে কাছে টেনে নেয়। এরপর থেকেই রমজান বেপরোয়া হয়ে ওঠে। হঠাৎ পুলিশি ক্ষমতা পাওয়া এমন লোকের কাছ থেকে দল এরকম আচরণ দেখাটাই স্বাভাবিক।

হোসেন সরদার নামে আরেকজন বলেন, দলকে বেঈমান মুক্ত রাখতে হবে। সেজন্য এসব দুমুখো সাপ থেকে সচেতন থাকতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমজান আলী বলেন, ‘আমি কোনো প্রোগ্রামে যায়নি। আমার ওখানে কিছু জমি আছে তো সেই জমির ওখানে গেছিলাম।’

এ বিষয়ে ধামরাই থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, আবাসন প্রকল্পটিতে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে তারা একটি সভা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওই সভা করা হলে প্রকল্পের সঙ্গে আয়োজকদের সংঘর্ষ হতে পারে এই শঙ্কায় ও করোনা ভাইরাস রোধে জনসমাগম না করতে তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল। তবে তারা নির্দেশ অমান্য করেই সেখানে বক্তব্য দেয়। আমরা তাতে বাঁধা দিইনি। এরপরে তারা ওই প্রকল্পে ঢুকে জনসভা করতে গেলে আমরা তা বন্ধ করে দেই।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার মেয়র আব্দুল গণি বলেন, 'ও (রমজান আহমেদ) আমাদের পোস্টেড কোন নেতা না। সদস্য শুধু। স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বক্তব্যের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি তাকে জিজ্ঞেস করবো বিষয়টা নিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-২০ ধামরাইয়ের সাংসদ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদা চাওয়ার সভা করা অপরাধ। তাদেরকে প্রতিহত করতে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এই চাঁদার টাকা দেশ বিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এদেরকে অচিরেই থামাতে হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

বিএনপি,আ.লীগ,কাউন্সিলর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close