• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

ঝিনাইদহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষকের খোঁজ নেই

প্রকাশ:  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৩
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষক উধাও। মাসের পর মাস কর্মস্থলে তাদের কোনো দেখা নেই। স্কুলে না আসায় বেতন বন্ধ থাকলেও চাকরিতে বহাল আছেন তারা। তবে বিভাগীয় মামলা রুজুর মাধ্যমে ৩ জন শিক্ষককে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি মাসেই আরও কয়েকজন শিক্ষক চাকরিচ্যুত হবেন। আবার অনেক শিক্ষকের মাথার উপর বিভাগীয় মামলার খড়গ ঝুলে থাকলেও তারা কর্মস্থলে আসেন না। ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল মাওয়া থাকেন আমেরিকায়। দীর্ঘদিন তিনি স্বামীর সঙ্গে বিদেশে বসবাস করছেন। কিন্তু এখনো তিনি কাগজ-কলমে চাকরিতে বহাল আছেন। ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকার খান-এ খোদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করছেন। এই দুই শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।

মহেশপুরের ঘুগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসরিন আক্তার প্রায় ৭ মাস স্কুলে অনুপস্থিত। তিনি কোথায় আছেন তা বলতে পারেননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু আহসান। তিনি জানান, নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। দ্রুতই তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চলছে।

হরিণাকুণ্ডুু উপজেলার ভেড়াখালী গ্রামের জেহের আলী জোয়ারদারের ছেলে মতিয়ার রহমান চাকরি করেন তাহের হুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি একবছর ধরে স্কুলে আসেন না। কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য একাধিকবার চিঠিও দেয়া হয়েছে। তার মোবাইলটিও দীর্ঘদিন বন্ধ। আজ পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই। একই উপজেলার দখলপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে শ্রাবনী ইয়াসমিন চাকরি করেন সোনাতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তিনি দেশে থাকলেও কর্মস্থলে আসেন না। এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

শৈলকুপার ঝাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন ও কাতলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পিএসসি’র সুপারিশকৃত নন ক্যাডারে যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই তিনি উধাও। একদিনও স্কুলে আসেননি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ থেকে ও আলমগীর হোসেন একই বছরের ১৮ই জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

কোটচাঁদপুর উপজেলার এঁড়েনদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সামছুন্নাহার শিমু এক বছর ধরে কর্মস্থলে নেই। কোটচাঁদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অসিত বরণ পালের ভাষ্যমতে- সামছুন্নাহার শিমু ২০২০ সালের ফেব্রয়ারি মাস থেকে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। শিমু অন্য কোনো চাকরি করতে পারেন বলে তিনি জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন জানান, তার উপজেলায় দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনুর রহমান দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জেলাব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষকের কর্মস্থলে অনুপস্থিতের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতিমধ্যে আমরা বিভাগীয় মামলা দায়ের করে ৩ জনকে চাকরিচ্যুত করেছি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আরও কয়েকজন চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত হবেন। শৈলকুপায় দুইজন পিএসএসসি’র সুপারিশে নন ক্যাডারে প্রাথমিকে চাকরি পেয়েছিলেন। তাদের ব্যাপারে পিএসসি’র মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত আসলে তারা চাকরি হারাবেন।

তিনি বলেন, যারা বিদেশে বা অন্য কোথাও চাকরি করছেন তাদের বেতন বন্ধ করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হয়তো ২/৩ মাসের মধ্যে তাদেরকেও চাকরিচ্যুত করা হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ঝিনাইদহ,শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close