• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮
  • ||

স্কুলে না গিয়েও বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক 

প্রকাশ:  ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:২৪ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৪৩
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন নতুন উদ্যমে। কিন্তু তার ব্যতিক্রম ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাদিরাবাদ দাখিল মাদরাসায়। দুজন শিক্ষক করোনার আগ থেকেই অনুপস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রখেছেন। একজন ঢাকায় থেকেও বেতন তুলছেন নিয়মিত, আর অন্যজন এলাকায় থেকে ঘুরে বেড়ালেও প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইল সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত কাদিরাবাদ দাখিল মাদরাসা। ১৯৫০ সালে স্থাপন করা মাদরাসাটিতে প্রায় তিন শ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে ১৭ জন শিক্ষক। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হলেও ছিল না আশানুরূপ শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে যে দুজন শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন তাঁরা তার ব্যতিক্রম ঘটাননি।

ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক তামান্না সুলতানা ২০১৯ সাল থেকে এই মাদরাসায় থাকলেও তাঁর উপস্থিতি ছিল না। করোনাকালে সুযোগটি নেন শতভাগ। না এসেও মাস শেষে বেতন শিটে ছিল তাঁর নাম। বেতন প্রায় ২৪ হাজার টাকা।

জানা যায়, ওই বেতনের একটা অংশ মাদরাসায় রেখে দিয়েই তিনি নিশ্চিন্তে রয়েছেন অনুপস্থিত। প্রায় দেড় বছর পর প্রতিষ্ঠান খোলা হলে অনুপস্থিত থাকার পুরো ঘটনা প্রকাশ হতে থাকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক তামান্না সুলতানার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনি ইউনিয়নের বালুচড়া গ্রামে। বর্তমানে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন। প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে আছেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের পালাহার গ্রামে। যুবলীগের নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলাকায়। সকাল থেকে রাত অবধি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। দীর্ঘদিন পরে খোলা হলেও তাঁর অনুপস্থিত লক্ষণীয়। এর মধ্যে বেতন আটকে থাকেনি কোনোদিন।

আজ বুধবার সকালেও শিক্ষক হেলাল উদ্দিনকে প্রতিষ্ঠান খোলার সময়ে স্থানীয় বাজারে বসে আড্ডা মারা ছাড়াও ঘুরতে দেখা গেছে। পরে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'মিথ্যা কথা বলব না। এখন আমি বাড়ির মসজিদে। নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয় নাই।'

প্রতিষ্ঠানটির সুপার আব্দুল আজিজ বলেন, 'হেলাল উদ্দিনের ব্রেইন টিউমারের অপারেশন হয়েছে। তাই তিনি কম আসেন। অন্যদিকে, করোনার আগে তামান্না সুলতানা যোগদান করেছেন। মহামারির পর মাঝে মধ্যে এসেছেন। দূর থেকে আসেন তো তাই একটু সুবিধা দিয়েছি।' এখন তো প্রতিষ্ঠান খোলা তাহলে এ ধরনের প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'উনি অসুস্থ। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাঠাচ্ছেন।'

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

স্কুলে না গিয়ে,শিক্ষক,বেতন নিচ্ছেন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close