• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮
  • ||

এলাকায় শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত এএসআই সৌমেন

প্রকাশ:  ১৪ জুন ২০২১, ১১:৩৮
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় তিন জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আটক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন রায়ের বাড়ি মাগুরায়।

মাগুরার সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আসবা গ্রামেই তার বেড়ে ওঠা। এলাকায় তিনি শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বরইচারা অভয়াচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পান। পরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হন। বিয়ে করেন শালিখা উপজেলার ধাওয়াসীমা গ্রামে। সৌমেনের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানত না তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌমেনের বাবা সুনীল রায় মারা গেছেন অনেক বছর আগে। বাড়িতে মা ঝর্ণা রানি আছেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সৌমেন দ্বিতীয়। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। ভাই শান্ত রায় কৃষি কাজ করেন। সৌমেনের পাঠানো টাকায় চলতো মায়ের সংসার।

সৌমেনের ভাই শান্ত জানান, সৌমেন পারিবারিকভাবে ২০০৫ সালে ধাওয়াসীমা গ্রামে কাশিনাথ বিশ্বাসের মেয়েকে বিয়ে করে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সে খুলনায় থাকতো। সেই স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সৌমেনের বিয়ের বিষয়টি তাদের জানা ছিলো না।

তিনি বলেন, ‘আমরা টিভিতে সংবাদ দেখে তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পারি। কুষ্টিয়ায় কর্মরত অবস্থায় হয়তো আসমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়।’

সরেজমিন সৌমেনের গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, টিনের একটি ছোট্ট ঘরে মা ঝর্ণাকে নিয়ে ভাই শান্ত তার পরিবার নিয়ে থাকেন। ঘরের দেয়ালে সৌমেনের একটা বড় ছবি টাঙানো। বাড়ি জুড়ে সুনসান নীরবতা। কেউ তেমন কথা বলতে চান না।

সৌমেনদের প্রতিবেশী কুচিয়ামোড়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরুফ বলেন, ‘সৌমেনকে ছোট বেলা থেকে জানি। সে অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে।’

সৌমেনের বাল্য বন্ধু নারায়ণ ও সুদর্শন বিশ্বাস জানান, সৌমেনের সঙ্গে তারা প্রাইমারি ও হাইস্কুলে একসঙ্গে পড়েছেন। সে অন্য সহপাঠীদের তুলনায় ধীর স্থির ছিল। চাকরি পাওয়ার পর সে তেমন বাড়ি আসত না। দুই বছর পর একবার বাড়ি আসলে কারো সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতো না।

সৌমেনের শ্বশুর কাশিনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘২০০৫ সালে আমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে মেয়ে আছে। মেয়েটা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আর ছেলেটা পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। তাদের সুখের সংসার ছিল। কবে সে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে সেই বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এক দিনের মধ‌্যে আমার মেয়ের সুখের সংসারটা শেষ হয়ে গেলো।’

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ায় ১৩ জুন বেলা ১১টার দিকে শহরের কাস্টমস মোড়ে গুলি করে স্ত্রী আসমা খাতুন, তার ছেলে রবিন ও শাকিল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেন সৌমেন রায়।

এদিকে, তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌমেন পুলিশকে জানিয়েছেন, শাকিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ছিলো। তাই তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত ছিলেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএস

শান্ত ছেল,এএসআই সৌমেন,কুষ্টিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close