• শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮
  • ||
শিরোনাম

এবার গোটা খুলনায় এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ

প্রকাশ:  ১১ জুন ২০২১, ১৫:২৭
খুলনা প্রতিনিধি

করোনা সংক্রমণ রোধে খুলনায় ১৩ জুন থেকে এক সপ্তাহের ‘বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে- সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান, শপিংমল, রেস্তোরাঁ খোলা রাখা যাবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে বা ঘোরাঘুরি করতে পারবেন না। ইজিবাইক চলবে অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে। কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকান এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। সভায় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, গত এক সপ্তাহ খুলনার কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করে সংক্রমণ প্রতিরোধে কোনো ভাল ফল পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে সমগ্র জেলায় বিধিনিষেধ আরোপ ও তা বাস্তাবায়ন করতে না পারলে খুলনার করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাবে না। রাস্তাঘাটে অযথা জটলা করে আড্ডা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে সেখানে প্রতিদিন পাঁচশ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে গত সাত দিনে ২২৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৪৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মাদ ইসমাঈল হোসেন ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, সতক্ষীরার প্রভাব খুলনায় এসে পৌঁছেছে। আম এবং বন্দরের মালামাল আনা নেওয়ায় সর্তকতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ায় সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। এখানে সংক্রমণ ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। যশোরে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানেও লকডাউন চলছে। বাগেরহাটের মোংলায় লকডাউন চলছে।

বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনা সদরে করোনা পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায়। খালিশপুর ও সোনাডাঙ্গার পরিস্থিতি অনেক ভাল।

এদিকে পুলিশের তৎপরতার কারণে নিউমার্কেটের একটি গেটও খোলেনি। করোনা মোকাবিলায় যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে বলে কেএমপি প্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত ৩ জুন থেকে খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর ও রূপসা থানায় এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিধিনিষেধ শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (১০ জুন)। এ ছাড়া পাইকগাছা ও ফুলতলা উপজেলায় চলছে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ। এরই মধ্যে শুক্রবার খুলনাজুড়ে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ থেকে শুরু করে এইচডিইউ এমনকি সাধারণ শয্যা কোথাও ফাঁকা নেই। ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ১৪৩ জন। খুলনা জেলায় এ পর্যন্ত ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫৬ জন শনাক্ত হয়েছে। যা নমুনা পরীক্ষার ৩৫ শতাংশ।

সভায় খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মো. মাহবুব আলম সোহাগ, সরকারি কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএস

খুলনা,বিধিনিষেধ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close