• মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮
  • ||

যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ:  ১৬ এপ্রিল ২০২১, ১৪:১৮
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার শোলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামে দাদন খলিফা (২৮) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁর ওপর হামলা করে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র রামদা ও টেঁটা দিয়ে কোপানো হয়। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) ভোরে তার মৃত্যু হয়। তিনি শোলপাড়া ইউনিয়নের যুবলীগের সদস্য ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন।

এ ঘটনায় ১০ ব্যক্তিকে আসামি করে সদরের পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন ওই তরুণের বাবা সেকান্দার খলিফা। পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও পালং মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গয়ঘর গ্রামের সেকান্দার খলিফার ছেলে দাদন যুবলীগের স্থানীয় ইউনিয়ন কমিটির সদস্য। তিনি ছয় বছর ধরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তিনি দেশে ফেরেন। ওই গ্রামের ইদ্রিস খান, আজাহার খান, শাহজাহান খান, আতাহার খানের সঙ্গে খলিফা পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। ১৯৯৭ সালে দাদনের ফুফু দেলুনুর আক্তারকে হত্যা করা হয়। তখন ওই চার ভাইকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়। পরে নানা চাপে মামলাটি চালাতে পারেননি খলিফা পরিবার। কিন্তু দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব রয়ে যায়। গতকাল বাড়ির পাশের মসজিদ থেকে তারাবিহর নামাজ আদায় করে বের হন দাদন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ফসলি জমির মাঠে তাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনেন। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় নেওয়া হয়। শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

দাদনের বাবা সেকান্দার খলিফা বলেন, ‘ইদ্রিস খান ও তাঁর তিন ভাই ১৯৯৭ সালে আমার বোনকে হত্যা করেন। সেই বিচার পাইনি। বিচার না হওয়ায় তারা ২৪ বছর পর আবার আমার ছেলেকে হত্যা করল। ককটেল বোমা ফাটিয়ে ইদ্রিস খান আমাদের সামনে থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে যান। ২০-২৫ ব্যক্তি মিলে কুপিয়ে ছেলেকে ফেলে রেখে গেছে। কী দোষ করেছিলাম আমরা? দেশের অবস্থা ভালো নয় দেখে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে ছিলাম। দুই মাস আগে ফিরে এসেছে। ১৫ দিন আগে তাকে বিয়ে দিয়েছি, করোনার কারণে এখনো বউ বাড়িতে তুলে আনতে পারিনি। স্বামীর ঘরে আসার আগেই মেয়েটি বিধবা হলো। এ হত্যার পরিকল্পনাকারী ও ইদ্রিসদের প্রশ্রয়দাতা এসকান্দার সরদার। তাকে মামলায় আসামি করতে চাইছি, কিন্তু পুলিশ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না।’

ঘটনার পর থেকে ইদ্রিস ও তার পরিবারের সদস্যরা গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে এসকান্দার সরদার বলেন, ‘ওই যুবলীগ নেতা দাদনকে কারা হত্যা করেছে, তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো বিরোধ নেই। আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এ কারণে একটি পক্ষ কৌশলে এ হত্যা ঘটনার সঙ্গে আমার নাম জড়াতে চাচ্ছে।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, দাদনকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিবরণ ও তার বাবার বিবরণের পরিপ্রেক্ষিতে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ওই তরুণের বাবা বাদী হয়েছেন। ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা এলাকা থেকে পালিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএস

যুবলীগ নেতা,কুপিয়ে হত্যা,শরীয়তপুর,যুবলীগ নেতা,কুপিয়ে হত্যা,শরীয়তপুর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close