• রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭
  • ||

হেফাজত তাণ্ডব: রাস্তায় বসে দায়িত্ব নিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরপরিষদ

প্রকাশ:  ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০১:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রায় ১৫৪ বছর বয়স ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার। তবে বয়সের ভারে নয়, তাণ্ডবের শিকার হয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি এখন খানিকটা নুয়ে পড়েছে। পৌরভবনের দেয়ালগুলোই এখন শুধু দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে-ভেতরে এখনও পোড়া গন্ধ।

এই অবস্থাতেই বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরসভা ভবনের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র নায়ার কবির ও কাউন্সিলররা।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দায়িত্ব নিতে গিয়ে অনেকে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তাণ্ডবের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিও তুলেন তারা।

গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিনে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৌরসভা কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পৌরসভার শত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরভবনের সামনে এখনও ধ্বংসস্তূপ। কার্যালয়ের সামনেই তাঁবু টানিয়ে রাখা হয়েছে। এটিতেই অস্থায়ী অফিস ও তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করার কথা জানানো হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে দায়িত্ব বুঝে নেন নতুন পৌর পরিষদ।

কথা হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক জীবন, মিজানুর রহমান আনসারী, আব্দুল মালেকের সঙ্গে। এমন অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব নিতে হবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হন নায়ার কবির। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

পৌর মেয়র নায়ার কবির বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হিসেবে পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। কিন্তু গত ২৮শে মার্চ হেফাজতের তাণ্ডবে জেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। তাদের তাণ্ডবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা আজ প্রাণহীন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সকল নথি ও রেকর্ডপত্র। দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভায় এমন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা নেই। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ভস্মীভূত করে দেবে, এটা ভাবা যায় না। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনও সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আজ খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় বসে আমি দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্বভার গ্রহণ করছি।

হেফাজতের তাণ্ডবকে ইতিহাসের নজিরবিহীন ন্যক্কারজনক ঘটনা বলে উল্লেক করেন তিনি। পাশাপাশি তাণ্ডবের কারণে সেবা দিতে না পারায় নাগরিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত পৌরসভাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। তাহলে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।

এ সময় পৌরসভার সচিব মো. শামছুদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী নিকাশ চন্দ্র মিত্র, সহকারী প্রকৌশলী মো. কাউসার আহমেদ ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণ, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, ভূমি অফিস ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তাণ্ডবের ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৪৫টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩ জনকে। তবে গ্রেফতারকৃতরা কেউ হেফাজতের নেতাকর্মী নয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close