• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

লেখক মুশতাকের সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন পাননি ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশ:  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:২৩
গাজীপুর প্রতিনিধি

কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদের লাশ (৫৩) ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার দুপুরে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাঁর লাশ গাজীপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে রওনা হন স্বজনেরা। গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। তবে সুরতহালের সময় মরদেহের গায়ে লালচে কালো দাগ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে লাশের সুরতহাল করার সময় শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাননি বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বেলা ১১টায় গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. অসিউজ্জামান চৌধুরী লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মো. সাফি মোহাইমেন লাশের ময়নাতদন্তের কাজ শেষ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ দুপুর সাড়ে ১২টায় লাশ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। মুশতাকের চাচাতো ভাই নাফিসুর রহমানসহ অন্য স্বজনেরা লাশ বুঝে নেন।

গাজীপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. অসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ বায়েজীদ বলেন, ‘আগে বা পরে ঘা হয়েছে এমন লালচে-কালো ছোট ছোট দাগ দেখা গেছে তার পিঠে ও ডান বাহুতে। হাসপাতালে আনার সময় বা গাড়িতে ওঠানোর সময়ও এ দাগ হয়ে থাকতে পারে। বিস্তারিত জানার জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে হবে। প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে কী হয়েছিল।’

এসআই জানান, কারাগারের পক্ষ থেকে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ব্যাপারে জিএমপি’র জয়দেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (নং ১৩) রুজু করা হয়েছে।

হাসপাতাল মর্গে মরদেহের জন্য অপেক্ষমাণ লেখক মোস্তাক আহমেদের চাচাতো ভাই ডা. নাফিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার মরদেহ আমি নিজে দেখেছি। কোনও সমস্যা আমার চোখে পড়েনি। ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন ছাড়া আমি এ ব্যাপারে কী বলবো? আমাদের কোনও অভিযোগ নাই। আমরা কোনও মামলাও করবো না।’ এর বাইরে তিনি কিছু বলতে চাননি।

তিনি জানান, শুক্রবার বাদ মাগরিব লালমাটিয়া সি ব্লকের মিনার মসজিদে মুশতাক আহমেদের জানাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মরদেহ দাফন করা হবে আজিমপুর কবরস্থানে।

মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শাফী মোহাইমেন। তিনি বলেন, ‘দৃশ্যত গায়ে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরির পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরেই মুশতাক আহমেদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রাত ৮টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুশতাক আহমেদ নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার থানার ছোট বালাপুর এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। ঢাকা মেট্রোপলিটনের রমনা মডেল থানার ২০২০ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের ৬ মে ঢাকা জেলে ও পরে ২৪ আগস্ট থেকে তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এনএন

ম্যাজিস্ট্রেট,সুরতহাল,লেখক মুশতাক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close