• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

সাংবাদিক মুজাক্কির খুনের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ:  ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৪৪
নোয়াখালী প্রতিনিধি
সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন তিনি।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল রনি বলেন, নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের বাবা অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

২৮ বছর বয়সী মুজাক্কির মুজাক্কির ‘দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার’ ও অনলাইন পোর্টাল ‘বার্তা বাজার’র স্থানীয় প্রতিনিধি ছিলেন। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে সম্প্রতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়েছিলেন মুজাক্কির।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ নোয়াখালীর স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার আপত্তিকর নানা মন্তব্য নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে উত্তাল নোয়াখালীর রাজনীতি অঙ্গন। কাদের মির্জার বিরুদ্ধে গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজারসংলগ্ন তার বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট মধ্যম বাজারে গেলে কাদের মির্জার অনুসারীরা মিছিলে হামলা চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল ও গাড়িযোগে চাপরাশিরহাট এলাকায় যান। এক পর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। গুলিতে তার মুখের নিচের অংশ এবং গলা ঝাঁজরা হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ১০-১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে। সংঘর্ষে সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে শনিবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংঘর্ষের সময় উপস্থিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক সাংবাদিক জানান, মির্জা কাদের ও বাদলের অনুসারীদের ধাওয়া, সংঘর্ষের ছবি তোলার সময় হামলাকারীরা মুজাক্কিরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার মোবাইল ফোন ফেরত চাইলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মুজাক্কির।

মুজাক্কির যখন গুলিবিদ্ধ হন তখন পাশেই ছিলেন স্থানীয় মোজ্জামেল হক। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই সময় ছবি তুলছিল সাংবাদিক মুজাক্কির। এ সময় হঠাৎ করে আমাকে বাঁচান বলে মাটিতে পড়ে যায় মুজাক্কির। পরে আমিসহ আরও লোকজন এসে তাকে হাসপাতাল পাঠাই।

তবে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দাবি তাদের গুলিতে মারা যাননি মুজাক্কির। মুজাক্কির হত্যায় একে অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নোয়াখালী,সাংবাদিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close