• বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

জুতা পায়ে শহীদ ড. জোহার স্মৃতিস্তম্ভে এমপি বাদশা

প্রকাশ:  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:৪১
রাবি প্রতিনিধি

দেশের স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহা। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বাঁচাতে গিয়ে ওই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন তিনি। প্রতি বছর শ্রদ্ধাভরে এই দিনটিকে স্মরণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সেই শিক্ষকের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে উঠে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পৌনে ১১টার দিকে ড. জোহার ৫২তম শাহাদাতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে জুতা পায়ে তার স্মৃতিস্তম্ভে ওঠেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ ড. শামসুজ্জোহার প্রয়াণ দিবসে তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। তার নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা স্মৃতিস্তম্ভের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন। পরে জুতা পরিহিত অবস্থায়ই শহীদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাংসদ বাদশা।

ওই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, একজন ছাত্রনেতা ও সাংসদ হিসেবে ফজলে হোসেন বাদশাকে অনেকে অনুকরণ, অনুসরণ করেন। কাজেই উনি বিষয়টি মোটেই ঠিক করেননি। এ জায়গায় তার আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নাট্যজন অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, বয়সজনিত কারণে তিনি হয়তো এটা করেছেন। এটা ওনার করার কথা না। যেখানে তিনি জুতা পায়ে উঠেছেন এক অর্থে ওটাই ড. জোহা নিহত হওয়ার মূল স্পট। ওই স্থানটাতে ওনার সম্মান দেখানোটা উচিত ছিল। আমার মনে হচ্ছে, তিনি অসাবধানতাবশতই এ কাজটা করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শহীদ জোহার স্মৃতিস্তম্ভে জুতা পায়ে সাংসদ বাদশার উপস্থিতিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলেন, কাজটি মোটেই সমীচীন হয়নি। এমপি বাদশা ছাত্রনেতা থেকে জননেতা হয়েছেন। তাই বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল তার।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close