• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে, এসআই কারাগারে

প্রকাশ:  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৮:০৯
বগুড়া প্রতিনিধি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় পুলিশের এসআই গাউস কারাগারে। ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, নির্যাতন করে হত্যাচেষ্টা ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন স্ত্রী। এই মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ইফতেখায়ের মো. গাউসুল আজম বুধবার দুপুরে আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা গাউসুল আজম নওগাঁ জেলায় রিজার্ভ অফিসে কর্মরত আছেন। তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের চেঁচড়া গ্রামের শামছুল হক ও ফিরোজা বেগমের ছেলে।

আদালত সুত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর পৌর এলাকার টাউন কলোনীর বাসিন্দা গৃহবধূ তমানিয়া আফরিন তার স্বামী পুলিশের এস আই ইফতেখায়ের গাউসুল আজমকে আসামি করে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর আদালতে ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগে বরা হয়, তিনি বগুড়া সরকারী মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ইংরেজি মাস্টার্স শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তার সাথে আসামির পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কর্মকর্তার সাথে তার রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে বিয়ে হয়। তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করাকালে বাদি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বাদিনী জানতে পারেন যে, তার স্বামীর আগের স্ত্রী ও সন্তান আছে এবং আসামি সে বিষয় গোপন করে তাকে বিয়ে করেছে।

এদিকে আসামি পুলিশের ওই এস আই গাউসুল আজম ঐ বছরের ১৭ আগস্ট দুপুরে বাদিনীর বাবার বাড়ি শেরপুর টাউন কলোনীর বাসায় যায় এবং যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে, না পেয়ে তার স্ত্রীকে কিল-ঘুষি মারাসহ শ্বাস রোধে হত্যার চেষ্টা করে। এ ছাড়া তার তলপেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করায় গর্ভপাত হয়।

এঘটনায় স্বামী পুলিশের এস আই ইফতেখায়ের গাউসুল আজমকে আসামি করে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল নং-২ এর আদালতে ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলা দায়ের করেন।

আইনজীবী এড. এস এম আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা গাউসুল আজম উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন নিয়ে এসেছিলেন। ৮ সপ্তাহ পর তিনি বুধবার দুপুরে আবার নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করলে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নুর মোহাম্মাদ শাহরিয়ার কবীর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর স্পেশাল পিপি এড. আশেকুর রহমান সুজন জানান, স্ত্রী’র দায়েরকৃত মামলায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পুলিশ কর্মকর্তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

কারাগার,এসআই,বগুড়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close