• শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

কুলাউড়ায় বিশ বছর পর নৌকার জয়

প্রকাশ:  ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৩৬ | আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিজয় অধরাই রয়ে ছিলো গেলো ২০ বছর। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন, ২০১৫ সালের পৌর ও সর্বশেষ ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি নৌকার কোনো প্রার্থী। তবে এবার এসছে চমক। ভেঙে গেছে সব রেকর্ড। কুলাউড়ায় একবিংশ শতাব্দীতে প্রথম জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীনদল আ.লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সিপার উদ্দিন আহমদ।

সদ্য সমাপ্ত শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয়ধাপে পৌরসভা নির্বাচনে কুলাউড়া পৌরসভায় ক্ষমতাসীনদল আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সিপার উদ্দিন আহমদ জয় লাভ করেছেন।

সিপার উদ্দিন আহমদ সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি- রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ এবং কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে দল সিপার উদ্দিন আহমদকে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী মনোনীত করে। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গণে জনপ্রিয় সিপার উদ্দিন আহমদ পৌর নির্বাচনেও জয়লাভ করেছেন।

এছাড়াও কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগ নৌকা বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা হয়। প্রচার প্রচারণায় অংশ নেয় সকল দ্বন্দ্ব পেছনে ফেলে। অন্যদিকে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে গত বছর দুয়েক আগ থেকেই সাধারণ জনগণের পাশাপাশি থেকে কাজ করে গেছেন। করোনার লকডাউনেও অসহায় কর্মহীন মানুষের কাছে ছুটে গেছেন সহযোগিতা নিয়ে। এদিক দিয়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে গেছেন বিজয়ের পথে। তার হাত ধরেই হয়তো নৌকার দীর্ঘদিনের অধরা ও কাঙ্খিত বিজয় এসেছে।

নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী সিপার উদ্দিন আহমদ নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৩৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজান মিয়া জগ প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৬৮৫ ভোট পেয়েছেন। ১৫৩ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন সিপার। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শফি আলম ইউনুছ নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৯৪ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ ১ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান জাতীয় সাংসদ (ঐক্যফ্রন্টের বহিষ্কৃত নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর ২০০১ সালে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম শাহীনের কাছে পরাজিত হন।

ওয়ান ইলেভেনের পট পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাসের কাছে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসা অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান শামীমের ভরাডুবি হয়। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নৌকার মনোনয়ন পাননি। এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বি ত এম এম শাহীন বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়েও আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাসিত ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান মো. মনসুর আহমদের কাছে পরাজিত হন।

এদিকে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন আলহাজ্ব শফি আলম ইউনুছ।

গেলো বছরের ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ২য় অবস্থানে এবং নৌকার প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য কোন্দলে রূপ নেয়। যার আঘাত ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ওপর গিয়ে পড়ে।

২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীণ যুব বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ স ম কামরুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়েও তৎকালীণ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমানের কাছে পরাজিত হন।

এদিকে বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ মনোনীত কোনো প্রার্থী পৌর মেয়র নির্বাচিত না হওয়ায় পৌরবাসীর কাঙ্খিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। পৌরশহরের যানজট ও ড্রেনেজ সমস্যা পৌর জনগণের জন্য দুর্ভোগের আরেক নাম। এসব দুর্ভোগ মাড়িয়ে চলতে হয় মানুষদের। তবে এবারকার নির্বাচনে পৌরবাসীর কাঙ্খিক্ষত উন্নয়নের জন্য ভোটাররা পরিবর্তন চাচ্ছেন।

আর পরিবর্তনের জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক, জেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছে পৌরবাসী। বিজয়ের পেছনে কারণ ছিলেন তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি।

কুলাউড়ার ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণে রয়েছে যার অনেক অবদান। পর্যটন সম্ভাবনাময় কুলাউড়া উপজেলার নামেমাত্র এ গ্রেডের কুলাউড়া পৌরসভা রয়েছে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। গিঞ্জির পরিবেশে পৌরশহরে যানজটের মধ্যে দিয়ে শহরে লোকজন চলাফেরা করছেন। পৌর নাগরিকদের বিনোদনের নেই কোনো ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য নেই কোনো শিশুপার্ক। এসব কারণে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা পরিবর্তন করেছে। উন্নয়নের স্বার্থে রায় দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদের পক্ষে কেন্দ্রী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় কুলাউড়ায় সভা এবং গণসংযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের (সিলেট বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক ও আরেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) শফিউল আলম নাদেল নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কুলাউড়ায় এসেছেন তাদের প্রার্থীর ভোট চাইতে।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিছবাহুর রহমান, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা, মিছিল পথ সভা চালিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কুলাউড়া পৌরসভায় ৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৮১০ জন। এর মধ্যে আজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৪ হাজার ৮১০টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ছিলো ১৪ হাজার ২৯৩ এবং বাতিল হয় ৫১৭ ভোট।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

জয়,নৌকা,কুলাউড়া,মৌলভীবাজার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close