• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

চাকরির দাবিতে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাবি ছাত্রলীগ

প্রকাশ:  ১২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:২৯
রাবি প্রতিনিধি

চাকরির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ দুই উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরকে উপাচার্যের বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীরা।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ওই চারজনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ভেতরেই সোমবার অফিস চলাকালে জালাল নামে একজনকে সেকশন অফিসার পদে অ্যাডহকে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সামনে অবস্থান নেয় চাকরি প্রত্যাশী ২০-২৫ জন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এসময় উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সেখানে আধাঘন্টা অবস্থানের পর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছয়জনের একটি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। উপাচার্য তাদের চাকরি নিশ্চিতের বিষয়ে আশ্বস্ত না করলে বাইরে এসে তারা উপাচার্যের ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ চাকরি প্রত্যাশী উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করছেন।

জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি সব ধরনের নিয়োগ বাতিল রাখার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আজ এডহকে একজনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কেন চাকরি হচ্ছে না। সেটি জানতেই নেতা-কর্মীরা গিয়েছিলেন।’

তবে, ফটকে তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান ছাত্রলীগের কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি চিঠি দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। আমরা মনে করি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই চিঠি ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অ্যাক্ট আছে সেই অ্যাক্টের পরিপন্থী। রাবি উপাচার্য যদি দুর্নীতি করে থাকেন, তাহলে তাকে কেন অপসারণ করা হচ্ছে না? অপসারণ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরি প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের ২০১৭ সাল থেকে উপাচার্য আশ্বাস দিয়ে আসছে। কিন্তু চাকরি দিচ্ছেন না। উপাচার্য ঠিকই তার মেয়ে জামাতার চাকরি দিয়েছেন। আমাদের চাকরির বিষয় সামনে আসলেই তিনি বিভিন্ন অজুহাত প্রদর্শন করেন।’

মতিহার থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ জানান।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে চাকরি দেওয়া জন্য। যেহেতু নিয়োগে বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ আছে তাই আমি বিষয়টি সচিবকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি জেনে নিয়োগ দিতে বলেছেন। আমি নিয়োগ দিয়েছি। সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী এসে চাকরির দাবি জানিয়েছে। তারা আমার সঙ্গে দেখা করেছে। আমি তাদের বলেছি, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজায়ার (ইচ্ছা)। এটা শুনে তারা তখন বলে, আমাদেরও দিন।’

তিনি বলেন, তাদের জন্য পরবর্তীতে কী করা যায় দেখা হবে বললে তারা চাপ প্রয়োগ করে চলে যায়। এখন শুনছি তারা প্রশাসনিক ভবন ও আমার (উপাচার্যের) বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে রাবিতে সকল প্রকার নিয়োগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,ছাত্রলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close