• রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

যৌতুকের জন্য নির্যাতন, হাসপাতালে নববধূ

প্রকাশ:  ২২ নভেম্বর ২০২০, ১৪:০৫
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগরে হাত থেকে বিয়ের মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই যৌতুক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নববধূ উম্মে কুলছম (১৮) নামের এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী। বিয়ের ২২ দিনের মাথায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিটের চিহ্ন নিয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যায় শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে উপজেলার কনৌজ গ্রামের সামছুল ইসলামের মেয়ে কুলছুম। এদিকে হাসপাতালে ভর্তির সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কুলছুমের স্বামী কিংবা ওই পরিবারের কোন সদস্যই কুলছুম দেখতে আসেনি এবং কোন খোঁজ খবরও নেয়নি।

নববধূ কুলছুম জানায়, সে বর্তমানে রাণীনগর শের-এ বাংলা সরকারি মহাবিদ্যালয়ে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখে একই গ্রামের আক্তারের ছেলে রাসেলে সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লেনদেন কোন কথা ছিলো না। কিন্তু বিয়ের ১৫ দিন পার হতে না হতেই ফুফা শ্বশুর ময়েজের নেতৃত্বে স্বামী রাসেল, তার মা, বাবা ও বোন বাবার বাড়ি থেকে আমাকে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। এরপর থেকে তারা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি মারপিট করতে শুরু করে। গত ১৬ নভেম্বর শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ননদ কুলছুমকে কোন কারণ ছাড়াই ৩ লাখ টাকার কোন ব্যবস্থা না করার দায়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। মারপিটের এক পর্যায়ে কুলছুম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এরপর খবর পেয়ে কুলছুমের বাবা সামছুল ইসলাম মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এরপর থেকে শরীরে যৌতুকের মারপিটের ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন নিয়ে কুলছুম হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আছে।

কুলছুম আরো জানান, ইতোমধ্যেই তার স্বামীকে অন্য এক জায়গায় বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারাও করছে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও ময়েজ উদ্দিন। আমি রাসেলে সংসার করবো কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের কারণে আমাকে অন্যায়ভাবে যে মারপিট করেছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর আমার বাবা গরীব। আমার বাবা যৌতুকের এতোগুলো টাকা কোথায় পাবে? তারা যদি সময় দিতো তাহলে হয়তো বা আমার বাবা একটু চেষ্টা করতো।

কুলছুমের বাবা সামছুল ইসলাম বলেন, আমি অসহায় মানুষ। দিনমজুরের কাজ করে খাই। বিয়ের সময় যদি তারা আমাকে যৌতুকের কথা বলতো তাহলে আমি সেইভাবে আমার মেয়েকে বিয়ে দিতাম। আর তারা আমাকে বলবে কত টাকা লাগবে? কিন্তু আমার মেয়েকে যেভাবে তারা মারপিট করেছে আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি বিষয়টি রাণীনগর থানায় মৌখিকভাবে জানিয়েছি। পুলিশ বলেছে, মেয়ে সুস্থ হওয়ার পর থানায় নিয়ে আসতে। তারা অনেক প্রভাবশালী। তাই আমি আইনের আশ্রয়ে যেতে ভয় পাচ্ছি।

এই বিষয়ে কথা বলতে কুলছুমের স্বামী রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আমাকে বিষয়টি মেয়ের বাবা মৌখিক ভাবে জানিয়েছে কিন্তু লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

নওগাঁ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close