• বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

গভীর রাতে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

প্রকাশ:  ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৯
বরিশাল প্রতিনিধি

কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মবিরতির অবস্থান থেকে সরে এসে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটা থেকে ইন্টার্নরা স্ব-স্ব ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনও শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

তবে নতুন করে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত দেওয়া আল্টিমেটামের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেট আটকে দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। এ সময় তারা সেখানে দাঁড়িয়ে মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ কারণে ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভর্তি হতে না পরে ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা এসে ইন্টার্নদের সঙ্গে কথা বললেও জরুরি বিভাগের গেটটি বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত ১টা ৫মিনিটে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরোয়ার, হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন, উপ-পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে আসেন। তারা জরুরি বিভাগের গেট খুলে দিয়ে রোগীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইন্টার্নদের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর ইন্টার্নরা জরুরি বিভাগের গেট খুলে দেন এবং হাসপাতালের নিচতলায়ই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।আলোচনা শেষে ইন্টার্নরা রাত আড়াইটার দিকে কর্মবিরতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জানান, কলেজ অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালক স্যারের দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মবিরতি থেকে সরে এসে ইন্টার্নরা কর্মে ফিরে গেছেন। তবে যদি শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে ইন্টার্নদের হয়রানি বন্ধ ও অন্য দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তারা আরো জানান, মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক থেকে কমিশন নিয়ে থাকেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ইন্টার্ন ডক্টরদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়াও মাসুদ খান সিনিয়র চিকিৎসকদের কক্ষে তালা দেয়াসহ জুনিয়র চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকেন। যে বিষয়টি লিখিত আকারে হাসপাতাল পরিচালক বরাবর দিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে ইন্টার্নদের হেয় করা হচ্ছে এবং মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে। যার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের চলমান পরিস্থিতি সমাধানে সুষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ঘটনাগুলোর তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরাও জানতে চাচ্ছি হাসপাতালের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার কেউ চেষ্টা চালাচ্ছে কিনা। আর বৃহস্পতিবার যেসব কারণে ইন্টার্নরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সেসব বিষয় কলেজ অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে আমরা শুনেছি। সমাধানে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। এরপর তাদের জরুরি বিভাগ খুলে দেওয়া এবং কর্মবিরতি থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলে তা তারা মেনে নেয়।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরোয়ার বলেন, ইন্টার্নদের বয়স খুবই কম। তারা অল্পতেই যেমন ভয় পেয়ে যায়, আবার উত্তেজিতও হয়ে যায়। সৃষ্ট পুরো ঘটনার প্রতিটি বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

বরিশাল,কর্মবিরতি,শেবাচিম হাসপাতাল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close