• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

মৃত্যুর আট বছর পর আসামি

প্রকাশ:  ০১ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত্যুর আট বছর পর বাবলু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করার পর এ সপ্তাহে ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং আদালত মৃত ব‌্যক্তিকে মামলা থেকে অব‌্যহতি দেন।

এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। এর আগে একই আদালতে আট বছরের এক শিশুকে আসামি করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে তখনও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৃত বাবলুর নামে রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে গেল বছর দায়ের করা ফৌজদারী মামলা নম্বর- ২৩০/২০১৯। আসামি মৃত ব্যক্তি, এ বিষয়টি নজরে আনা হলে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) গোলক চন্দ্র বিশ্বাস মামলার অভিযোগকারী কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) আজাহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

ওই আদালতের আইনজীবী সাইফুর রহমান খান রানা জানান, মামলার আসামি নগরীর সাহেববাজার জরিপট্রির ‘স্মৃতি স্বরুপ বাসনালয়ের’ মালিক মো. বাবলু ২০১১ সালের ২ নভেম্বর মারা যান। কিন্তু মামলার অভিযোগকারী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দোকান খোলা রাখার অভিযোগ এনে বাবলুর বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেন, তাতে দোকান খোলা রাখার তারিখ হিসাবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সালের ৫, ১২ ও ১৯ জুলাই এবং ১১ অক্টোবর।

এদিকে মামলা দায়েরের আট বছর আগে আসামি মৃত ব্যক্তি হওয়ার কারণে মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোন আইনগত প্রয়োজনীয়তা না থাকায় আদালত আসামিকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যহতি এবং মামলা নথিজাতের আদেশ দেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর এই আদেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ছুটির দিন দোকান বন্ধ না রাখার অভিযোগ এনে রাজশাহী পবা উপজেলার পূর্ব পুঠিয়াপাড়া গ্রামের জনাব আলীর আট বছরের ছেলে জুবাইর আহমেদকে আসামি করে মামলা করেছে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী শ্রম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপমহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, আট বছরের শিশুকে আসামি করার ঘটনাটি দোকান মালিকের অবহেলার কারণে হয়েছে। কারণ, দোকানের সাইনবোর্ডে এই শিশুর নাম লেখা হয়েছিল। সেই নামেই নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। কিন্তু মালিক কোনো জবাব না দেওয়ার কারণে তার বয়স বোঝা যায়নি। এ কারণেই ওই শিশু মামলার আসামি হয়ে যায়।

তবে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করেন মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। তবে বিষয়টি শুনেছি। ইতোমধ্যে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। রাজশাহী ফিরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

মৃত্যু
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close