• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭
  • ||

বাইসাইকেলে আত্মবিশ্বাসী নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কিশোরীরা

প্রকাশ:  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৫
এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার

নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর কিশোরীদের মনের ইচ্ছা থাকার পরেও নির্জন রাস্তা আর শারীরিক ক্লান্তি তাদেরকে বাধা হয়ে দাঁড়াত স্বাভাবিক জীবনের পথে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার মেয়েদেরকে স্কুলে আসতে হয় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে/দূর থেকে। তাই তারা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারে না।

কিন্তু এখন নিয়মিত স্কুলে যাবে তারা। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রকল্প থেকে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের দেয়া বাইসাইক পেয়ে প্রত্যন্ত এবং পাহাড়ি এলাকার ছাত্রীদের মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ৩০জন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয় বাইসাইকেল। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকেল বিতরণ করেন নবাগত জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

এর ফলে করোনাক্রান্তী কাটলেই স্কুলে ক্লাস করতে পারবে নিয়মিত। তাদের দেখাদেখি এখন উৎসাহিত হবে অন্যান্য ছাত্রীরাও। অনেকেই মনে করছেন স্কুলেগুলোতে বাড়বে ছাত্রী সংখ্যার উপস্থিতি। ফলে নারী শিক্ষার হারে যুক্ত হলো গ্রামীন এলাকার শিক্ষা ক্ষেত্রের নতুন মাত্রা।

অভিবাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়ে তারা চিন্তায় থাকতেন কারন দূর্গম পথে ৪/৫ কি.মি হেটে বাড়ীতে যেতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যেত , কিন্তু সাইকেল পাবার পর তারা এখন চিন্তা মুক্ত।

সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়েছেন তাদের অভিমত এই প্রকল্পের ফলে নারী পুরুষের যে পার্থকের বীজ কিশোরমনে রোপন করে দেওয়া হয় তা থেকে মুক্তি পাবে এই এলাকার কিশোরীরা। বড় হয়ে ছেলেদের পাশাপাশি সমাজ গঠনে বা নিজ নিজ কর্মস্থলে তাদের আত্মবিশাস তাদেরকে এগিয়ে রাখবে।

উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের লুহায়নি চা বাগানের চা শ্রমীক কন্যা জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বপ্না ভুমিজ জানায়, স্কুলে আসতে বেশ কয়েক কিলোমিটার পথের পুরোটাই হাঁটতে হতো। চা বাগানের পথে পথে নানান বিড়ম্বনা। ক্লান্ত শরীর নিয়ে পড়ার টেবিলে মনযোগ দেয়া সম্ভব হতো না। এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। শরিফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর চা বাগানের চা শ্রমিক কন্যা এটিএম হাই স্কুলের ছাত্রী বৃজেট টপ্পর বলে, স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হতো। এখন নিয়মিত স্কুলে পারবো।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগে নারী শিক্ষার অগ্রগতির পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে। পর্যক্রমে আরো বিস্তৃতি ঘটবে চলমান এ সাফল্য।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, মেয়েদের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্ঠিভঙ্গির পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে বাড়বে নারী শিক্ষার হার। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পর্যটন সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়র করতে ইতিমধ্যে আমি বেশ উদ্যোগ নিয়েছি। বিশেষ করে হাকালুকি হাওরকে হাওর উন্নয়ন বোর্ডের অন্তভুক্তকরণ, প্রস্তাবিত মুড়ইছড়া ইকোপার্ক বাস্তবায়ন, হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া অংশ ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ পর্যটনের উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, নবাগত জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান কুলাউড়া উপজেলার বীর মুক্তিযেদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সেবাগ্রহিতার সাথে মতবিনিময় করেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নবাগত জেলা প্রশাসক।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফি আহমদ সলমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর, কুলাউড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্রাচার্য সজল, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ নুরুল হক, ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, প্রভাষক মমদুদ হোসেন ও এম এ রহমান আতিক, মুক্তিযোদ্বা মাশুক আহমদ, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদির, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, স্কাউটস সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি ফয়জুর রহমান ছুরুক, ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মঈনুল ইসলাম শামীম, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলাম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের সভাপতি গৌরা দে, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু, শিল্পকলা একাডেমীর সেক্রেটারী নির্মলেন্দু ভট্রাচার্য বিপুল, উদিচির সেক্রেটারী নির্মাল্য মিত্র সুমন, সাংবাদিক সৈয়দ আশফাক তানভীর প্রমুখ।

পরে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘মাতৃদুগ্ধ কক্ষ’ উদ্বোধন করেন ডিসি। কুলাউড়া পৌরসভা পরিদর্শণ করে সেখান থেকে উপজেলা আমির ছলফু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, বঙ্গবন্ধু কর্ণার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্ণারসহ বিভিন্ন মণোমুগ্ধকর ফটোডিসপ্লে উপভোগ করেন। পরে কুলাউড়া রেল কলোনীতে মানুষের পানির সমস্যা নিরসনে ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

মৌলভীবাজার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close