• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

ধর্ষণ ধামাচাপা দিতে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ:  ২০ আগস্ট ২০২০, ১৭:৪০ | আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ১৭:৪৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
গ্রেপ্তার হওয়া তিন ধর্ষক মুনসুর, জাক্কার, শহিদুল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে শ্যামলী ওরফে কাদনি (৪২) নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে পৈশাচিকভাবে মস্তক বিছিন্ন করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্যামলীকে এভাবে হত্যা করা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পুলিশ চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভোলাহাটের বালুটুঙ্গি গ্রামের মিয়ার উদ্দিনের ছেলে মুনসুর আলী (৪০), একই গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে জাক্কার (৪০) ও একই উপজেলার মুশলীভূজা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে শহিদুল (৩৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও ভোলাহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, আসামি মুনসুর আলী ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি জাক্কার ও শহিদুলের ৭ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট সকালে দলদলি ইউনিয়নের ঘাইবাড়ি কোনাটোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গামাটিয়া বিলে প্রতিদিনের মত গরুর ঘাস কাটতে যান শ্যামলী। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ১৮ আগস্ট সকালে ওই বিলের ধানক্ষেতের ভেতর থেকে শ্যামলীর মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহের বিছিন্ন মাথা পাওয়া যায় ২০ ফুট দূরে। পুলিশ জানায়, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী শ্যামলী পিতার বাড়িতেই থাকতেন।

ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মরদেহ উদ্ধারের দিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার হওয়া মুনসুর কয়েক দিন পূর্বে শ্যামলীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শ্যামলী বিষয়টি জানাজানি করে। এতে মুনসুর ক্ষুদ্ধ হয়।

পুলিশ তদন্তে আরও জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃতরা শ্যামলী নিখোঁজের দিন রাতে বিলের নিকট পিকনিক করে। আসামিরা ওই দিন নির্জন বিলের ধারে একটি পেয়ারা বাগানের টং ঘরে শ্যামলীকে ধর্ষণ করে বেধে রাখে। পরে সন্ধ্যার দিকে শ্যামলীকে ধানক্ষেতের ভেতর নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখে। এ হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কিনা সেটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ওসি মাহবুব।

পূর্বপশ্চিমনিউজ/এনএন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close