• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

আদিবাসী নারী ধর্ষণ চেষ্টার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০২০, ১৬:১৬ | আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪৬
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গোগ্রাম ইউনিয়নের ইটাহারী গ্রামে আদিবাসী নারী ধর্ষণ চেষ্টা ও মারধরের প্রতিবাদে এবং প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইটাহারী গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী সুমিত্রা মুন্ডা বলেন, “আমরা ভয়ে ভয়ে থাকছি, কখন না আমাদের ওপরে হামলা হয়। এ ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। পুলিশ আমাদেরকে বলে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিতে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক আমাদেরও সমান অধিকার আছে আইনি সহায়তা পাওয়ার।”

সম্পর্কিত খবর

    ওই গ্রামের বাসিন্দা লুচি মুন্ডা বলেন, “জহুরুলের লোকজন আমাদেরকে দা, হাসুয়া দিয়ে মারধর করে এবং রাস্তা অবরোধ করে দেয়।”

    বক্তারা বলেন, ইটাহারী গ্রামে আদিবাসী নারী ধর্ষণ চেষ্টার মুল হোতা জহুরুল ইসলামকে দ্রুত এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    জানা যায়, গত ৮ আগষ্ট দিবাগত রাতে প্রতিবেশি জহুরুল ইসলাম (৪৫) ভুক্তভোগী ওই আদিবাসী নারীর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জহিরুল ইসলামকে হাতে নাতে ধরে আটক করে রাখে। পরে জহিরুলের লোকজন এসে আদিবাসীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। প্রসঙ্গত যে, জহিরুল ওই আদিবাসী নারীকে এর আগেও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে।

    এ ঘটনায় ৯ আগষ্ট গোদাগাড়ী থানায় লুচি মুন্ডা একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিন ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জহিরের ছেলে জাব্বারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী লুচি মুন্ডার দেবর মতিলাল মুরারী (২২) এবং তার স্ত্রী রীতা রানী মুরারীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে যখম করে। আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রেমতলি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

    ১০ আগষ্ট গোদাগাড়ী থানায় মামলা করা হলে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন প্রধান আসামী জহুরুলের ছেলে আব্দুর জব্বার (২২), আনিকুল (২৪) এবং জালাল উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০)। কিন্তু প্রধান আসামী জহুরুল ইসলামকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এরমধ্যে ১৫ আগষ্ট আনিকুল এবং সেন্টু (৪০) জামিনে ছাড়া পায়। এখন ভুক্তোভোগী নারীর পরিবারসহ আদিবাসী গ্রামটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আসামীরা প্রতিনিয়ত ভুক্তভোগীর পরিবার এবং আদিবাসীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

    মানববন্ধনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক গনেশ মার্ডি, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস প্রমূখ।

    এছাড়া আরো বক্তব্য দেন ইটাহারী গ্রামের সুমিত্রা মুন্ডা, লুচি মুন্ডা ও গোগ্রাম পূজাতলা গ্রামে নির্যাতনের শিকার আদরী লাকড়া প্রমূখ। সংহতি বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রশান্ত কুমার সাহা, ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রাজশাহী জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলি বরজাহান।

    পূর্বপশ্চিমনিউজ/এনএন

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    cdbl

    সারাদেশ

    অনুসন্ধান করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close