• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

ওসি প্রদীপসহ আসামিদের দেখতে আদালত চত্বরে নজিরবিহীন ভিড়

প্রকাশ:  ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২:০৪
কক্সবাজার প্রতিনিধি

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ আসামিকে বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) কক্সবাজার জেলা জজ আদালতস্থ টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৫টার দিকে তাদেরকে এজলাসে তোলা হয়। টানা এক ঘণ্টা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামিদের দেখতে কক্সবাজার আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের নজিরবিহীন সমাগম হয়।

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি প্রত্যাহার হওয়া উপ-পরিদর্শক লিয়াকত ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ এজাহারভুক্ত নয় আসামিকে আদালতে তোলার খবর প্রকাশ হয়। সেই খবর পেয়ে কক্সবাজার শহরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার উৎসুক লোকজন কক্সবাজার জেলা আদালত চত্বরে সমবেত থাকে। ক্রমান্বয়ে লোক সমাগম বেড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমে পরিণত হয়।

এদিকে এই বিপুল উৎসুক জনতার সমাগমের শৃঙ্খলা ঠেকাতে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। তারা একদিকে বিপুল মানুষের সমাগমে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পাশাপাশি নিরাপত্তার বজায় রাখার জন্য নিশ্চিদ্র বেষ্টনি জোরদার করেছেন। কেননা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা নিয়ে পুরো দেশের মানুষ টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও গুলি ‘স্যুট’ করা সাবেক উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ আসামীদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ছিলো। সে বিবেচনায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থেকে যায়। তাই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা জোর করা হয় বলে একটি সুত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আদালত নম্বর-৩) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালতে সাবেক ওসি প্রদীপসহ ৯ আসামিকে তোলা হয়। তাদের আইনজীবি তাদের জামিন আবেদন করেন। পরে দীর্ঘ এক ঘণ্টা শুনানি হয়। মামলায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলি, এসআই দুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের জন্য র‌্যাব হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলায় আত্মসমর্পণ করা বাকি চার আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এএসআই লিটন মিয়াকে দুই দিন জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন বিচারক।

মামলার বাকি দুই আসামি এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা এখনও পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। তদন্তের স্বার্থে গত রোববার টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ সবাইকে প্রত্যাহার করা হয়। আর হত্যা মামলা হওয়ার পর বুধবার ওসি প্রদীপকে প্রত্যাহার করা হয়।

বুধবার দুপুরে মেজর সিনহা হত্যার বিচার চেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটির শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে তা ‘ট্রিট ফর এফআইআর ’ হিসেবে আমলে নিতে টেকনাফ থানাকে আদেশ দেন আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ। একইভাবে মামলাটি কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলা অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

কক্সবাজার,পুলিশ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close