• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু, মাঠে তদন্ত দল

প্রকাশ:  ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৭:২৯ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২০, ১৭:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুরে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মাঠে নেমেছে তদন্ত দল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্তদলের প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার হিলডাউন সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া তদন্ত কমিটির এ বৈঠক দীর্ঘ ৬ ঘণ্টাব্যাপী চলে।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ বৈঠকে তদন্তদলের সদস্যরা ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছেন। এতে তদন্তদলের নির্দিষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা তথা কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলসহ মাঠ পর্যায়ে যেখানে যাওয়ার দরকার সেখানে পরিদর্শন করবেন। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীসহ যাদের দরকার তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের এই কমিটি বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বিভাগে কর্মরত সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের মনোনীত প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনোনীত প্রতিনিধি অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ ও অপারেশন) মো. জাকির হোসেন এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সবাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে তাদের প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। এখনো দায়িত্বে আছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস।

সিনহা রাশেদ খান ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করেন। এসএসএফের সদস্য হিসেবে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপসচিব প্রয়াত মো. এরশাদ খানের ছেলে। তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে ২০০১ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি গত ৩ জুলাই ঢাকা থেকে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিনজন ছাত্রছাত্রীসহ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি ট্রাভেল ভিডিও তৈরি করতে কক্সবাজার আসেন। প্রায় এক মাস তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন।

তার মৃত্যুর ব্যাপারে গত রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহতের ঘটনায় দুর্ঘটনা হোক বা যা-ই বলেন, ঘটনা তো একটা ঘটেছে। এটা অস্বীকারের কিছু নেই। সরকার এর সঠিক কারণ খুঁজে সামনে এনে দোষীকে শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি (গতকাল ওই কমিটি পুনর্গঠন করে চার সদস্যের করা হয়) গঠন করা হয়েছে। যেখানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি এবং সামরিক বাহিনীর একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তাদের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি আমরা। তারা বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রকাশের পরই এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করলে তা তদন্তের ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

আসাদুজ্জামান খাঁন আরো বলেন, ‘দুর্ঘটনা হোক বা যা-ই বলেন, ঘটনা তো একটা ঘটেছে। এটা অস্বীকারের কিছু নেই। সরকার এর সঠিক কারণ খুঁজে সামনে এনে দোষীকে শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর। আপনারা সাংবাদিকরা যতদূর শুনেছেন, তা আপনাদের মধ্যে থাক। আমি যা শুনেছি, তা আমার মধ্যেই থাকুক। তদন্তের আগে এ নিয়ে একটি কথাও বলতে চাচ্ছি না।’

অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, এখনো তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। তবে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়টিও তদন্ত কমিটির ওপর নির্ভর। বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের পর যা বেরিয়ে আসবে, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে কতখানি সঠিক বা ভুল করেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।’


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

তদন্ত দল,মেজর (অব.) সিনহা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close