• শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

পূর্বপশ্চিমের নিউজ শেয়ার করায় সাংবাদিককে ডা. সাবরিনার লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশ:  ১৪ জুলাই ২০২০, ০২:৩৯ | আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২০, ১২:২৭
নাটোর প্রতিনিধি

অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমে ‘সাবরিনা আরিফ চৌধুরী কেনো গ্রেপ্তার হলো না?’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করায় নাসিম উদ্দীন নামে এক সাংবাদিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণাকারী জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠিয়েছেন।

নাসিম উদ্দীন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের নাটোর জেলা প্রতিনিধি। ৩ জুলাই সাংবাদিক নাসিম ফেসবুকে দেশের আলোচিত প্রতারক জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এ সংক্রান্ত একটি নিউজ পোস্ট করেন। যা ডা. সাবরিনার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ৭ জুলাই ব্যারিস্টার সাদিক অ্যাসোসিয়েটসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাদিজাতুল কোবরার মাধ্যমে ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান নাটোরে।

নোটিশে বলা হয়, আমার ক্লায়েন্ট ড. সাবরিনা শারমিন হোসেন একজন সুনামধন্য হৃদরোগ সার্জন। তিনি দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। ‘ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা, সাবরিনা আরিফ চৌধুরী কেন গ্রেপ্তার হলো না’ শীর্ষক সংবাদের মাধ্যমে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। কেন আপনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ এবং ২৯ ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না- নোটিশ পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হল।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক নাসিম জানান, সংবাদটির তথ্যসূত্র হিসেবে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিম বিডির কথা লেখা থাকলেও তিনি আমাকে নোটিশ পাঠিয়েছেন। করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণাকারী এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে জেকেজির চেয়ারম্যান ড. সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করায় সরকারপ্রধান এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে ড. সাবরিনাসহ করোনা টেস্টের জালিয়াতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরী করোনার ভুয়া টেস্টের মাধ্যমে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ অভিযোগ ছিল আগে থেকে। জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৭ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজার ৪৬০টি জাল সনদ দিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। আর এ অভিযোগেই রোববার (১২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের উপ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার তেজগাঁও থানা পুলিশ সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

এর আগে ২৩ জুন জেকেজির সাবেক দুই কর্মী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী সিস্টার তানজিনাকে করোনা পরীক্ষার জাল রিপোর্ট তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য মতেই জেকেজির গুলশানের অফিসে অভিযান চালিয়ে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে জেকেজির সিই্‌ও হলেন আরিফ চৌধুরী ও চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী। যদিও আরিফ চৌধুরীসহ অন্যরা গ্রেপ্তারের পর থেকে সাবরিনা চৌধুরী নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের কেউ না বলে দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ ব্যাপক তদন্ত ও নানা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানতে পারে জেকেজির সঙ্গে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নাটোর,ডা. সাবরিনা চৌধুরী,সাংবাদিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close