• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

সাবেক পুলিশ সুপারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর মামলার নতুন মোড়

প্রকাশ:  ০৬ জুন ২০২০, ০২:৩৫ | আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ০২:৪১
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের চার বছর পার মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। কিলিং মিশনের নেতৃত্বদানকারী কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারের সঙ্গে সাবেক এসপি বাবুল আকতারের ফোনালাপের একটি ক্লিপ পাল্টে দিচ্ছে এ মামলার গতিপথ। গোয়েন্দা ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে থাকা ক্লিপটি সংরক্ষণ থাকলেও কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠনিক মুখ খুলছেন না। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘খুনের পর মুছার সঙ্গে বাবুল আকতারের কথা হয়েছে কি না তা জানা নেই। কথা যখন উঠেছে বিষয়টা তদন্ত করা হবে।’

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে খুন হন মিতু। খুনের পর পরই কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারের মোবাইলে কল দেন সাবেক এসপি বাবুল আকতার। মুছা ফোন রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গেই বাবুল আকতার জিজ্ঞাসা করেন ‘তুমি কোপাইলা কেন?

কে বলেছে তোমাকে কোপাইতে। প্রতি উত্তরে মুছা বলেন- না মানে। এরপর উত্তেজিত বাবুল আকতার লাইন কেটে দেন। বিগত সময়ে মামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলার তদন্তে স্পর্শকাতর অনেক তথ্য ও প্রমাণ পুলিশের কাছে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে মোবাইলে কথোপকথনের ক্লিপ, নানা আলামত এবং এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিভিন্ন জনের আন-অফিসিয়াল জবানবন্দি। এসব তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে এলে মামলার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। এক জায়গায়তেই স্থির চার বছর : মাহমুদা খানম মিতু খুন হওয়ার পর দেশ-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। খুনিদের ধরতে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক মাসের মধ্যেই গ্রেফতার হন কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সাতজন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিতু কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া রাশেদ ও নবী। মাঝে এ খুনের বিষয়ে একাধিকবার সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকতা। এর পর পরই মিতুর পরিবার এ খুনের জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছে। যদিও এ বিষয়ে কখনো মুখ খোলেননি বাবুল আকতার। ‘আত্মগোপনে’ থাকা মুছার পরিবারও বাবুল আকতারকে দায়ী করছেন এ খুনের জন্য। এক সময় ধামাচাপা পড়ে মামলার ফাইল। গত চার বছর ধরে এক জায়গায় স্থির রয়েছে মামলার তদন্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল সিএমপি। কিন্তু তার আগেই আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়।’ মামলার তদন্তের বিষয়ে পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সবেমাত্র এ মামলার তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। আগের তদন্ত কর্মকর্তারা কীভাবে এ মামলার তদন্ত করেছেন তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষে পুরোপুরিভাবে এ মামলার তদন্ত শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পর বাবুল আকতার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার কয়েক মাস পর এ ঘটনার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করছে মিতুর পরিবার।

এদিকে, কন্যা হারানোর ব্যাথা বুকে চেপে মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, পারিপার্শ্বিকতা বা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা মনে করি বাবুল আকতারই খুনের নির্দেশদাতা। আমরা চাই দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরা হোক। তারপর মামলার চার্জশিট অনুযায়ী যাদের যা সাজা হওয়ার তাই হোক।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

সাবেক পুলিশ সুপার,স্ত্রী মাহমুদা খানম,হত্যাকাণ্ড,চট্রগ্রাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close