• বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের আরও ২ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০২০, ১৫:২২
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সম্প্রতি লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। উক্ত ঘটনার পর হতে র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশক্রমে র‌্যাব-১২ মানবপাচার চক্র গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ডের সূত্রধরে র‌্যাব-১২ একটি অপহরণকারী চক্রের সন্ধান পায়।

সম্প্রতি বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার চুলকাঠি গ্রামের মো. আনোয়ার গাজীর পুত্র লিবিয়া প্রবাসী মো. মুরশিদ গাজী (২৭) সহ বগুড়ার চারমাথার আফসার আলীর ছেলে সাইফুল আলী (২৭) কিছু স্থানীয় বাংলাদেশি ও লিবিয়ান মানবপাচার চক্রের দ্বারা অপহৃত হয়।

অপহরণের পর লিবিয়ায় বাংলাদেশি চক্রের সদস্যরা ছদ্ম নামের ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে ভিকটিম মুরশিদ গাজীর বড় ভাই বেলাল গাজীকে বাংলাদেশি চক্রের মূল হোতা লিবিয়ায় বসবাসরত সোহেল (২৮) ভিকটিমদের নির্যাতনের একটি ভিডিও পাঠায় ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং মুক্তিপণ না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে লিবিয়ার মূলহোতা সোহেল মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তার ছোট ভাই পাথরঘাটা নিবাসি মো. সজল ও নগদের এজেন্ট মো. ইদ্রিস আলীর নম্বর প্রদান করে এবং ভিকটিমের বড় ভাইকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিকটিমকে মারধর ও কান্না কাটির শব্দ শোনানো হয়। ভিকটিম মুরশিদ গাজীর বড় ভাই বেলাল গাজী মো. সজলের সাথে উক্ত নম্বরে কথা বলে মো. ইদ্রিস আলীর নগদ হিসাবের মাধ্যমে মুক্তিপণের ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করে।

একইভাবে সজল ও ইদ্রিসের একাধিক সীম নম্বর ও মোবাইল সেট ব্যবহার করে বগুড়ার চারমাথার আফসার আলীর ছেলে সাইফুল আলী (২৭) এর পরিবারের কাছ থেকেও ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে এবং মুক্তিপণ অনাদায়ে মেরে ফেলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিম সাইফুল আলীর পরিবারও ইদ্রিসের নগদ হিসাবের মাধ্যমে সজলকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে।

উক্ত ভিডিও, ফেইসবুক লিংক মোবাইল নম্বর ও নগদ হিসাবের সূত্রধরে র‌্যাব-১২ উক্ত চক্রকে গ্রেপ্তারের জোড় প্রচেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২ জুন তারিখ রাতে বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অপহরণকারী চক্রের সক্রীয় ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার নাচনাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের পুত্র মো. সজল (২৩) ও ইউসুফ গোড়ামীর পুত্র মো. ইদ্রিস আলী (৩৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদ, ও মোবাইল ফোনের লোডের ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৭ শত ৮৫ টাকা ও নগদ ৮ হাজার একশত টাকা, ২৫ টি নগদ, বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের রেজিষ্টার খাতা, ১১ টি মোবাইলসেট ও ২৯ টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য যে, উক্ত ভিডিওতে দেখানো ভিকটিমদের মধ্যে ভিকটিম মুরশিদ গাজী (২৭) ও সাইফুল আলী (২৭) জীবিত আছে মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অন্যান্যদের অবস্থান এখানো জানা যায়নি। তবে অন্যা ভিকটিমদের অবস্থান জানা ও বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

লিবিয়া,মানবপাচার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
Latest news
close