• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

ভাড়ার জন্য হোস্টেলে আটকে রাখা হয়েছিল ১৩ ছাত্রীকে

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০২০, ২০:৫৪
বগুড়া প্রতিনিধি
ভাড়ার দাবিতে বগুড়া শহরের একটি ছাত্রীনিবাসের ১৩ ছাত্রীকে সোমবার অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ছবি: পূর্বপশ্চিম

এপ্রিল থেকে তিন মাসের ভাড়ার দাবিতে বগুড়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন মুন্নজান ছাত্রী নিবাসে ১৩ জন ছাত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ সদস্যা আলোচনা করে ওই ছাত্রীদের উদ্ধার করে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠায়। সোমবার (১ জুন) দুপুরে বগুড়া শহরের কামারগাড়ি রেডিলাইট কমপ্লেক্স সংলগ্ন মুন্নুজান ছাত্রী নিবাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বগুড়া শহরের কামারগাড়ি এলাকায় মুন্নুজান ছাত্রী নিবাসে বিভিন্ন জেলার ছাত্রীরা ভাড়া নিয়ে লেখাপড়া করে থাকে। লক ডাউনের আগে ছাত্রী নিবাসের ওই ছাত্রীরা নিজনিজ বাড়ি চলে যায়। এরপর লক ডাউন সিথিল হলে তারা সোমবার সকালে ছাত্রী নিবাসে এসে রুমের বইপত্র উলটানো দেখে। কাপড় চোপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায় বলে দেখতে পায় ছাত্রীরা। পরে তারা ছাত্রী নিবাস ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় হোস্টেল সুপার হাফিজা বেগম ওই ছাত্রীদের কাছে এপ্রিল, মে, ও জুন মাসের ভাড়া দাবী করেন। ভাড়া না দেয়ায় তাদেরকে ছাত্রী নিবাসের বাহিরে যেতে বাধা দেয়। পরে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসার পর ছাত্রীরা ওই ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করে।

ছাত্রীরা অভিযোগ করে, প্রায়ই ১০/১২টি করে সাপ নিচতলায় দেখা যায়। কর্তৃপক্ষকে বললেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয় না। ছাত্রীনিবাসের চুরি হয়েছে। চুরি ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা কোথায়। অথচ ওই হোস্টেলে তিন শতাধিক ছাত্রী ভাড়া থেকে বগুড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে।

ওই ছাত্রীনিবাসের ছাত্রী সরকারি আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শেষ বর্ষের ছাত্রী বগুড়ার শিবগঞ্জের মোছা. রুমা জানান, আজ ওই হোস্টেলে সে সহ ১৩জন ছাত্রী আসে। সে তার রুমে গিয়ে দেখে সমস্ত রুম তছনছ অবস্থা। তার জামা কাপড় সহ দামী জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। তার মত আরেক জনের রুমও চুরি হয়ে যায়। যেখানে রুমে চুরি হয়। সেখানে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়। তারপরেও হোস্টেলের ইনচার্জ তিন মাসের ভাড়া পরিশোধ করে তারপর হোস্টেল ত্যাগ করার কথা বলে।

সিরাজগঞ্জ জেলার দীপান্বিতা এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি জানান, করোনার কারণে বাড়িতে চলে যায়। সোমবার হোস্টেলে তার বই পত্র নিতে আসে। কিন্তু তিন মাসের ভাড়া ছাড়া তাকে হোস্টেল থেকে বের হতে বাধা সৃষ্টি করা হয়। গরমের সময় প্রায়ই নিচতলায় অনেকগুলো সাপ বের হয়। হোস্টেলের সবাই আতঙ্কে থাকে।

মুন্নুজান ছাত্রীনিবাসের হোস্টেল সুপার হাফিজা বেগম জানান, এপ্রিল থেকে তিন মাসের ভাড়া চাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা দিবে না। পরে মালিক আব্দুল্লাহেল কাফীর সাথে কথা বললে দুই মাসের ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের ছেড়ে দিতে বলেন। সাপের উপদ্রবের বিষয়ে তিনি বলেন, মাঝেমাঝে সাপ বের হয়। তবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করি। রুমে চুরি হওয়ার এবং নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজী হননি।

বগুড়া শহরের স্টেডিয়াম ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম পূর্বপশ্চিমকে জানান, মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি। যার টাকা আছে সে দিয়ে যাবে। আর যার নাই সে পরে এসে দিবে। তবে ভাড়ার টাকার জন্য কোন ছাত্রীকে আটকে রাখতে পারবে না কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। যদি তাতে বাধাপ্রাপ্ত হয় কোন ছাত্রী তবে ওই ছাত্রীনিবাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

বগুড়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close