• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

লিবিয়ায় বাংলাদেশী হত্যার ঘটনায়

মাদারীপুরে নিহতদের পরিবারের ৩ মামলা, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০২০, ১৬:৫১
মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর

লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের পাচার এবং হত্যার ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি এবং রাজৈর থানায় ২টি মামলা দায়ের করেছে ৩ নিহতের পরিবার। ৩ মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশি হত্যা করে মানবপাচারকারীরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই মাদারীপুরের ১৭ জন বাসিন্দা। এর মধ্যে প্রবাসীর কল্যাণ মন্ত্রাণলয়ের থেকে জেলা প্রশসানকে ১১জন নিহত হয়েছে নিশ্চিত করেছে। এবং মাদারীপুরের রাজৈরে ৪জন আহত রয়েছে। এ ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত ও মানব পাচারের শিকার মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের মো. শামীম হাওলাদারের বাবা হালিম হাওলাদার বাদী হয়ে রোববার (৩১ মে) বিকেলে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে দালাল নজরুল মোল্লার স্ত্রী দিনা বেগমকে। দালাল নজরুল মোল্লা এখন লিবিয়াতে রয়েছেন। এই ঘটনায় রোববার রাতেই মামলার প্রধান আসামি দিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপরদিকে একই ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরে লিবিয়ায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা করেছে রাজৈর থানায়। এছাড়াও রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু খায়ের খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা জুলহাস সরদারসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের নিহত মানিক হাওলাদারের পিতা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। আমি আমার ছেলেকে আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি।

একই গ্রামের নিহত জুয়েল হাওলাদারের পিতা রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, আমার ছেলেসহ রাজৈরের বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় ৩/৪ মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজীতে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েস রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। তারপরও আমার ছেলেকে মুক্তি দেয়নি। দালালের সর্বচ্চো বিচার চাই। আর সরকারি সার্বিক সহযোগিতা চাই।

জুয়েলে মা কাদতে কাদতে বলেছেন, এখন শেষবারের মত ছেলের মুখটি দেখতে চাই, আমার ছেলেকে এনে দেন। আমার ছেলেরে অনেক কষ্ট দিয়ে মারছে।

নিহতের ভাই বাবুল হাওলাদার জানান, আমরা আমাদের জমি জমা সবকিছু বিক্রি ও বিভিন্ন সমিতি থেকে কিস্তি নিয়ে ভাইরের মুক্তিপনের টাকা দিয়েছে এখন আমরা নিশ্ব ও দিশেহারা।

রাজৈর থানার ওসি শওকত জাহান বলেন, মানবপাচারের ঘটনায় রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। দালাল জুলহাস দুটি মামলারই আসামি। একটি মামলায় ৭ জন ও অপর মামলায় ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে জুলহাস করোনা পজেটিভ হওয়ায় পুলিশি হেফাজতে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, মানবপাচারের ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে নিহত শামীমের বাবা হালিম হাওলাদার। এই মামলার প্রধান আসামি দিনা বেগমকে আমরা রাতে গ্রেপ্তার করেছি। এখন আদালতে প্রেরণ করা হবে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাদ) মো. আব্দুল হান্নান জানান, আমাদের দুই থানায় তিনটি মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। আমরা এই পযন্ত দুই মানবপাচারকারীর সদস্য আটক করেছি। এবং নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

লিবিয়া,মাদারীপুর,মানবপাচার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

সারাদেশ

অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close